এ বিষয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম প্রথম আলোকে বলেন, ‘মেয়েটির ভাইয়ের সঙ্গে কথা হচ্ছে। আজারবাইজানে আমাদের দূতাবাস নেই। ইরানের দূতাবাস আজারবাইজান দেখে। ইরানের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। মৃত্যুর বিষয়টি তিনি নিশ্চিত হয়েছেন। মনে হচ্ছে, একটি অস্বাভাবিক মৃত্যু। পুলিশের তদন্ত শেষে যত দ্রুত সম্ভব, আমরা লাশ নিয়ে আসার আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করব।’

রিয়ার ভাই ফরমান আলী জানান, ঢাকার একটি কলেজ থেকে কয়েক বছর আগে তাঁর বোন স্নাতক (সম্মান) শেষ করেছেন। এরপর আইন বিষয়ে পড়তে গত বছর আজারবাইজানের বাকু বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। লেখাপড়ার পাশাপাশি সেখানকার একটি রেস্তোরাঁয় খণ্ডকালীন চাকরি নিয়েছিলেন। তিনি বলেন, সেখানকার লোকের মাধ্যমে যতটুকু জানতে পেরেছেন, রেস্তোরাঁয় যাতায়াতের সময় স্থানীয় কিছু বখাটে তাঁকে নিয়মিত উত্ত্যক্ত করত। তাদের কথায় রাজি না হওয়ায় গত বুধবার সকালে রিয়াকে তুলে নিয়ে যায়। পরে তাঁর লাশ উদ্ধার করা হয়। তাঁর ডান হাত ভাঙা, পা ও মাথায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।

প্রতিবেশীদের সূত্রে জানা গেছে, রিয়া অভাবী পরিবারে বড় হয়েছেন। বাবা আবু বক্কর এখনো খড় বিক্রি করে সংসার চালান। তাঁর এক ভাই বাড়ির পাশে একটি মুদিদোকান চালান। রিয়া সংস্কৃতিমনা ছিলেন। এলাকায় থাকতে বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাকের সচেতনতামূলক নাটকে অভিনয় করতেন। বিভিন্ন গ্রামে এর প্রদর্শনী হতো। তিন ছেলে ও দুই মেয়ের মধ্যে রিয়া ছিলেন চতুর্থ।

রিয়ার বাবা আবু বক্কর প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমার কষ্টের সংসার। ছোট থেকেই মেয়েটার একটা স্বপ্ন ছিল, সে ব্যারিস্টার হবে। তাহলে আমাদের আর কোনো কষ্ট থাকবে না। এখন তো সব শেষ হয়ে গেল। বিদেশে খুনি শনাক্ত করা আমার মতো গরিব মানুষের সম্ভব নয়। আমি আমার মেয়ের লাশটা চাই। এটাই আমার সরকারের কাছে আকুল আবেদন।’

পুঠিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহরাওয়ার্দী হোসেন বলেন, অফিশিয়ালি এখনো কোনো খবর তিনি পাননি। লোকমুখে খবর শুনে মেয়েটির বাড়িতে পুলিশ পাঠিয়েছিলেন। লাশ নিয়ে আসার ব্যাপারে তাঁদের পরামর্শ দিয়েছেন।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন