default-image

মোটরযান ফিটনেস পরীক্ষা, চালক প্রশিক্ষণ ও ভবন নির্মাণের জন্য জমি বরাদ্দ চেয়েও পাচ্ছে না বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) নারায়ণগঞ্জ কার্যালয়। গত বছরের ২০ নভেম্বর খাস বা অধিগ্রহণের মাধ্যমে চার একর জমি বরাদ্দ চেয়ে জেলা প্রশাসককে (ডিসি) চিঠি দেয় বিআরটিএ। কিন্তু এক বছর পেরিয়ে গেলেও তারা কোনো জমি বরাদ্দ পায়নি।

জেলা প্রশাসন থেকে বিআরটিএকে জানানো হয়, তাদের কাছে জমি নেই। ফলে আটকে আছে বিআরটিএর ভবনসহ মাল্টিপারপাস সেন্টারের নির্মাণকাজ। এতে ফিটনেসবিহীন অবৈধ মোটরযানের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পারছে না বিআরটিএ। এ ছাড়া তারা প্রশিক্ষণও দিতে পারছে না চালকদের।

জানতে চাইলে বিআরটিএ নারায়ণগঞ্জ কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক (ইঞ্জিন) সৈয়দ আইনুল হুদা প্রথম আলোকে বলেন, মাল্টিপারপাস ভবন নির্মাণে চার একর জমি বরাদ্দ চেয়ে আবেদন করা হলেও গত এক বছরে তা পাওয়া যায়নি। জেলায় অনেক যানবাহনের ফিটনেস নেই। মোটরযানের ফিটনেস পরীক্ষা, প্রশিক্ষণের জন্য মাল্টিপারপাস সেন্টার নির্মাণ করা জরুরি।

বিজ্ঞাপন

বিআরটিএর ওই চিঠিতে জানানো হয়, গত বছরের ১৭ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সড়ক নিরাপত্তা কাউন্সিলের ২৬তম সভায় সড়ক পরিবহন সেক্টরে শৃঙ্খলা জোরদার এবং দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণে সুপারিশ প্রণয়নের লক্ষ্যে সাবেক নৌপরিবহনমন্ত্রী সাংসদ শাজাহান খানকে সভাপতি করে ১৫ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়। গত বছরের ১৭ এপ্রিল ওই কমিটির সভা হয়। সভায় শাজাহান খান ও প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক আবুল কালাম আজাদ উপস্থিত ছিলেন। ওই সভায় প্রতিটি জেলায় বিআরটিএ মোটরযানের ফিটনেস পরীক্ষা, মোটরযানের চালকদের প্রশিক্ষণ ও ড্রাইভিং লাইসেন্সের পরীক্ষা গ্রহণের জন্য বিআরটিএ কার্যালয় ভবন স্থাপন এবং ডিপিপি প্রস্তুত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়।

ওই কমিটি গত বছরের ২৮ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী বরাবর ১১১ দফা সুপারিশমালা সম্মিলিত প্রতিবেদন দাখিল করে। ওই সুপারিশমালায় বিআরটিএর প্রতিটি মেট্রো ও জেলা কার্যালয়ে মোটরযানের ফিটনেস পরীক্ষা, মোটরযান চালকদের প্রশিক্ষণ, ড্রাইভিং লাইসেন্সের পরীক্ষা গ্রহণ ও ভবন স্থাপনের সুপারিশ করা হয়। ওই সুপারিশের পরিপ্রেক্ষিতে গত বছরের ২০ নভেম্বর জমি বরাদ্দের জন্য ডিসি বরাবর আবেদন করেন ঢাকার বিআরটিএর চেয়ারম্যান মশিউর রহমান। কিন্তু এক বছর পার হলেও তারা কোনো জমি বরাদ্দ পায়নি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিআরটিএর কয়েকজন কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মহাসড়ক-সড়কে চলাচলকারী ৫০ শতাংশের বেশি যানবাহনের ফিটনেস নেই। ওপরে রং চকচকে ও ফিটফাট থাকলেও ভেতরে ইঞ্জিনসহ অন্যান্য যন্ত্রাংশের ফিটনেস নেই। ওই সব মোটরযান খালি চোখে দেখে ফিটনেস পরীক্ষা করা সম্ভব নয়। ভেহিক্যাল ইন্সপেকশন সেন্টার (ভিআইসি) মেশিনের মাধ্যমে মোটরযানের ফিটনেস পরীক্ষা করতে হয়। এতে সহজে যানবাহনের ফিটনেস পরীক্ষা করা যায়।

বিআরটিএ কর্মকর্তা আইনুল হুদা জানান, ভিআইসি মেশিনে পরীক্ষা করা হলে শত ভাগ মোটরযানের ফিটনেস পরীক্ষা করা সম্ভব। জমি বরাদ্দ না হওয়ায় ভিআইসি মেশিন স্থাপন করা যাচ্ছে না। ফলে মোটরযানের ফিটনেস পরীক্ষা করাও সম্ভব হচ্ছে না।

জানতে চাইলে নারায়ণগঞ্জের ডিসি মো. জসিম উদ্দিন বলেন, জমি বরাদ্দ চেয়ে বিআরটিএ আবেদন করেছিল। জেলায় খাসজমি নেই। তবে যদি তারা জমি অধিগ্রহণের জন্য আবেদন করে, তাহলে জমি অধিগ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন