বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

তবে নৌকার প্রার্থী আবু হামিদ মোহাম্মদ মোহাইমেন ও তাঁর সমর্থকদের দাবি, নির্বাচন নিয়ে মারপিটের কোনো ঘটনা ঘটেনি। বুকের ব্যথায় অসুস্থ অবস্থায় ওই ব্যক্তিকে হাসপাতালে নেওয়া হলে তাঁর মৃত্যু হয়েছে। পুলিশও মারপিটের কথা নাকচ করে একই ধরনের দাবি করেছে।

স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চতুর্থ ধাপে দেবোত্তর ইউপি নির্বাচনের ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ২৬ ডিসেম্বর। এখানে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন বর্তমান চেয়ারম্যান আবু হামিদ মোহাম্মদ মোহাইমেন (নৌকা প্রতীক)। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন কে এম শাহীন (আনারস প্রতীক)। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকেই এ দুই প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে বিরোধ শুরু হয়েছে। পোস্টার লাগানো থেকে শুরু করে প্রচার-প্রচারণায় কয়েকবার বাগ্‌বিতণ্ডা হয়েছে।

আজ দুপুরে সেলিমসহ আমার কয়েকজন কর্মী ইউনিয়নের রাইপুর গ্রামে প্রচারণায় যান। এ সময় নৌকার প্রার্থী আবু হামিদ নিজে লোকজন নিয়ে আমার কর্মীদের ওপর হামলা চালান। হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকেরা সেলিমকে মৃত ঘোষণা করেন।
কে এম শাহীন, স্বতন্ত্র প্রার্থী

স্বতন্ত্র প্রার্থী কে এম শাহীন জানান, আজ দুপুরে সেলিমসহ তাঁর কয়েকজন কর্মী ইউনিয়নের রাইপুর গ্রামে প্রচারণায় যান। এ সময় নৌকার প্রার্থী আবু হামিদ নিজে লোকজন নিয়ে তাঁর কর্মীদের ওপর হামলা চালান। এতে সেলিমসহ তাঁর কয়েকজন কর্মী আহত হয়ে বাড়িতে ফিরে আসেন। বিকেলে তাঁদের মধ্যে সেলিমের শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

সেলিমের মৃত্যুর খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে আনারস প্রতীকের কর্মী-সমর্থকেরা একত্র হতে শুরু করেন। সন্ধ্যায় তাঁরা নিহত সেলিমের লাশ নিয়ে বিক্ষোভ করতে থাকেন। শ্রীকান্তপুর গ্রাম থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি বের হয়ে উপজেলা সদরে এসে অবস্থান নেয়। এ সময় মিছিল থেকে হত্যার জন্য আওয়ামী লীগ প্রার্থী আবু হামিদকে দায়ী করা হয়। পরে পুলিশ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে বিক্ষোভকারীরা লাশ নিয়ে গ্রামে ফিরে যান।

এ প্রসঙ্গে জানতে যোগাযোগ করা হলে নৌকার প্রার্থী আবু হামিদ মোহাম্মদ মোহাইমেন প্রথম আলোকে বলেন, ‘নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এলাকায় কোনো মারপিটের ঘটনা ঘটেনি। নিহত ব্যক্তি হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন বলে আমরা শুনেছি। এখন ভোটের ফায়দা লুটতে মিথ্যা অভিযোগ দেওয়া হচ্ছে। এটা কখনই কাম্য নয়।’

আটঘরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুর রহমান বলেন, ‘আমাদের কাছে থাকা তথ্য অনুযায়ী, দুপুরে ওই ব্যক্তি বাজারের একটি দোকানে বসে শিঙাড়া খাচ্ছিলেন। এ সময় বুকে ব্যথা উঠলে তিনি বাড়িতে চলে যান। বিকেলে ব্যথা বাড়ায় হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। তিনি হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন বলে হাসপাতাল সূত্র আমাদের নিশ্চিত করেছে। মারপিটের কোনো তথ্য আমরা এখনো পাইনি। তবে বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। মারপিটের কোনো ঘটনা থাকলে অবশ্যই সে বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন