default-image

কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার পান্টি ইউনিয়নের নগরকয়া মৌজায় সরকারি বরাদ্দকৃত ১ নম্বর খাস খতিয়ানের ৯০ শতক জমি দখল বুঝে পেয়েছেন চারজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। প্রায় আট বছর ধরে ওই জমি দখল করে আবাদ করছিলেন এলাকার প্রভাবশালীরা। জমি দখলমুক্ত হওয়ায় মুক্তিযোদ্ধাদের পরিবারে আনন্দ বিরাজ করছে।

আজ সোমবার দুপুরে সহকারী কমিশনার (ভূমি) এম এ মুহাইমিন আল জিহান নিজে উপস্থিত থেকে জমির ওপর লাল নিশানা টানিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে জমির দখল বুঝিয়ে দেন। এ সময় সেখানে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও দলীয় নেতা–কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। তবে জমি দখলমুক্ত করার সময় দখলকারীদের কেউ সেখানে উপস্থিত ছিলেন না।

কুমারখালী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০১২-১৩ অর্থবছরে সরকারি ১ নম্বর খতিয়ানভুক্ত জমি বরাদ্দ পাওয়ার জন্য পান্টি ইউনিয়নের কয়েকজন ভূমিহীন মুক্তিযোদ্ধা আবেদন করেন। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ইউনিয়নের নগরকয়া মৌজায় মুক্তিযোদ্ধা জামাল উদ্দিনের নামে ২৫ শতাংশ, মুক্তিযোদ্ধা ইয়াকুব আলীর নামে ১৮ শতাংশ, মুক্তিযোদ্ধা শরিফুল ইসলামের নামে ২২ শতাংশ ও মুক্তিযোদ্ধা লোকমান হোসেনের নামে ২৫ শতাংশ ১ নম্বর খাস খতিয়ানের জমি বরাদ্দ দেয় সরকার।
তবে ওই জমিগুলো আগে থেকেই দখল করে রেখেছিলেন এলাকার প্রভাবশালী কয়েক ব্যক্তি। এর মধ্যে জামালের জমি দখল করে রেখেছিলেন এলাকার মতলেব মোল্লা, ইয়াকুবের জমি তারক চন্দ্র মণ্ডল ও মাস্তান মোলা, শরিফুলের জমি মো. বিপুল এবং লোকমানের জমি আকাম উদ্দিন জবরদখল করে রাখেন। ওই সব জমিতে তাঁরা সারা বছর ধরে ধান চাষসহ বিভিন্ন ফসল আবাদ করে আসছিলেন।

বিজ্ঞাপন

ভুক্তভোগীরা বিভিন্ন সময়ে গ্রামে সালিস বৈঠক করেন। কিন্তু তাঁরা জমি দখলে নিতে পারেন না। নিরুপায় হয়ে প্রায় দুই মাস আগে কুমারখালী উপজেলা ভূমি কার্যালয় ও সমাজসেবা কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ দেন।

কুমারখালী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এম এ মুহাইমিন আল জিহান প্রথম আলোকে বলেন, আবেদনের ভিত্তিতে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হয়। জমি উদ্ধারে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হয়। কাগজপত্র পর্যালোচনা করে জমি অবৈধভাবে দখলে থাকার বিষয়টি তদন্তে উঠে আসে। সোমবার সেখানে গিয়ে জমি উদ্ধার করে মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। সেখানে লাল নিশানা টানানো হয়েছে।

ভুক্তভোগী লোকমান হোসেন বলেন, ‘মাথা গোঁজার ঠাঁই নেই। সরকার ২৫ শতাংশ জমি দিছিল থাকার জন্য। কিন্তু প্রভাবশালীর জন্য দখল নিতে পারিনি। আজ এসি ল্যান্ড স্যার জমি ফিরে দিলেন।’ জামাল উদ্দিন বলেন, সরকার জমি দিয়েছে। কিন্তু সেটা প্রভাবশালীদের কারণে এত দিন কাজে লাগাতে পারেননি। প্রশাসন জমি বুঝিয়ে দেওয়ায় খুবই আনন্দ লাগছে। সেখানে ঘর বানিয়ে বাস করবেন তিনি।

এ সময় সেখানে কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি ও জেলা পরিষদের সাবেক প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা জাহিদ হোসেন, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলী, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ সমিতির সভাপতি এ টি এম আবুল মনসুর প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্য পড়ুন 0