পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার নিমগাছি ইউনিয়নের বেড়েরবাড়ির বুড়িভিটা গ্রাম এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে নিয়মিত জুয়া খেলার আসর বসানো হতো। সেখানে চলত ইয়াবাসহ নানা ধরনের মাদকদ্রব্য সেবন ও ক্রয়-বিক্রয়। জুয়া, মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ ও আধিপত্য বিস্তার নিয়ে আরিফুলের সঙ্গে একই গ্রামের আবদুল মালেকের বিরোধ দেখা দেয়। তাঁদের বিরুদ্ধে পুলিশ মারধরসহ জুয়া-মাদকের একাধিক মামলা রয়েছে।

স্থানীয় ব্যক্তিরা জানান, পূর্ববিরোধের জেরে গতকাল সন্ধ্যা ছয়টার দিকে আরিফুল ও তাঁর লোকজন আবদুল মালেককে কুপিয়ে আহত করেন। এর তিন ঘণ্টা পর মালেকের লোকজন রাত নয়টার দিকে আরিফুলকে ডেকে নিয়ে বাড়ি থেকে ৫০০ মিটার দূরে বেড়েরবাড়ি উচ্চবিদ্যালয়ের পাশে কাঁচা রাস্তার ওপর কুপিয়ে হত্যা করে। পরে হত্যাকারীরা হাত-পা বেঁধে ঘটনাস্থল থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার দূরে শাহজাহানপুর উপজেলার আমরুল ইউনিয়নের টাইপাড়া গ্রামের একটি পুরোনো কবরের ভেতর মাটিচাপা দিয়ে আরিফুলের লাশ ঢেকে রাখে। খবর পেয়ে আজ দুপুর ১২টার দিকে ধুনট ও শাহজাহানপুর থানার পুলিশ যৌথভাবে আরিফুলের ক্ষতবিক্ষত লাশ উদ্ধার করে।

নিহত আরিফুলের মা আরিফা খাতুন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলছেন, ‘ওরা আমার ছেলেকে বাড়ি থেকে ডাইকা নিয়া মাইরা ফালাইছে। আমার ছেলে খারাপ ছিল না। ওরাই আমার ছেলেরে খারাপ বানাইছে। আবার ওরাই মাইরা ফালাইলো।’

ধুনট থানা পুলিশ বলছে, আরিফুলের বিরুদ্ধে পুলিশ মারধর, জুয়াসহ মাদকের আটটি মামলা রয়েছে। মালেকের বিরুদ্ধেও পুলিশ মারধরসহ দুটি মামলা রয়েছে। দুজনই একসঙ্গে মামলার আসামি ছিলেন। ঘটনার পর থেকে আবদুল মালেক ও তাঁর সহযোগীরা পলাতক থাকায় তাঁদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

ধুনট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কৃপা সিন্ধু বালা বলেন, হত্যাকাণ্ডের খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে যাওয়া হয়। কিন্তু রাতের আঁধারে লাশ উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবদুর রশিদ বলেন, আরিফুলের মরদেহ আজ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের প্রস্তুতি চলছে। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন