বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আবুল কাশেম বলেন, আজ সকাল থেকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক। পর্যটকেরা যাঁর যখন ইচ্ছা টেকনাফ, মহেশখালী, রামু, চকরিয়াসহ জেলার বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানে পরিদর্শনে যাচ্ছেন। তাঁদের মধ্যে এখন কোনো আতঙ্ক নেই। কিছুদিন পর সেন্টমার্টিন-টেকনাফ নৌপথে প্রমোদতরি জাহাজ চলাচল শুরু হলে পর্যটকের আগমন আরও বেড়ে যাবে। আজ শহরের হোটেল–মোটেলে অবস্থান করছেন ৩০ হাজারের বেশি পর্যটক।

আজ সকালে সৈকতের লাবণী পয়েন্টে দেখা গেছে, কয়েক শ পর্যটক পানিতে নেমে গোসল করছেন। উত্তর দিকের সিগাল, সুগন্ধা পয়েন্টেও কয়েক শ পর্যটক গোসলে নেমে আনন্দ–উল্লাসে মেতে ওঠেন। কেউ কেউ বালুচরে দৌড়ঝাঁপ দিচ্ছেন।

সুগন্ধা পয়েন্টে কথা হয় ঢাকার সুত্রাপুর থেকে ভ্রমণে আসা স্কুলশিক্ষক আরেফা আহমেদের সঙ্গে। তিনি বলেন, পরিবারের চার সদস্য নিয়ে তিনি গত শনিবার সকালে কক্সবাজার ভ্রমণে আসেন। কিন্তু রোববার বিকেলে হঠাৎ সড়ক অবরোধ হওয়ায় তিনি মেরিন ড্রাইভ দিয়ে টেকনাফ ভ্রমণে যেতে পারেননি। আতঙ্কে গতকাল সোমবারও হোটেল থেকে বের হননি। আজ বিকেলে টেকনাফ ভ্রমণ করবেন। রাতের বাসে ঢাকায় ফেরার টিকিট করেছেন।

রাজশাহী থেকে ভ্রমণে আসা ব্যবসায়ী আজমল হোসেন বলেন, পর্যটন এলাকায় মানুষ আসেন নিরাপদ ভ্রমণের জন্য, আনন্দ উপভোগের জন্য। সেখানে হঠাৎ করে আন্দোলন, ধর্মঘট চলতে থাকলে আতঙ্ক বাড়ে। আর যেখানে আতঙ্ক থাকে, সেখানে মানুষ যাবে কেন?

রোববার বিকেলে কক্সবাজার সদর মডেল থানায় জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পৌর মেয়র মুজিবুর রহমানকে প্রধান করে আটজনের বিরুদ্ধে একটি হত্যাচেষ্টা মামলা করেন শহরের পেশকারপাড়ার বাসিন্দা মো. শাহজাহান। গত ২৭ অক্টোবর রাতে তাঁর ছোট ভাই ও জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি মোনাফ সিকদার সমুদ্রসৈকতের সুগন্ধা পয়েন্টে শুঁটকি মার্কেটে গেলে গুলি করে দুবৃত্তরা। মোনাফ সিকদার বর্তমানে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। গুলির ঘটনায় নির্দেশদাতা হিসেবে মেয়র মুজিবুর রহমানকে আসামি করা হয়।

default-image

ওই মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে রোববার বিকেল পাঁচটা থেকে রাত সাড়ে নয়টা পর্যন্ত পুরো শহর অচল করে রাখা হয়। মুজিবুরের সমর্থক ও দলীয় নেতা–কর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল, প্রতিবাদ সমাবেশের পাশাপাশি টায়ার জ্বালিয়ে প্রধান সড়কের দুই পাশের দোকানপাট বন্ধ করা হয়। সন্ধ্যার পর সড়কের মাঝখানে পৌরসভার ময়লা গাড়ি রেখে যাতায়াত বন্ধ করা হয়। ফলে বন্ধ হয়ে যায় দূরপাল্লাসহ সব ধরনের যানবাহন চলাচল। মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে আতঙ্ক। তবে রাত ১০টার পর থেকে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়।

পরের দিন গতকাল সকাল থেকে বেলা আড়াইটা পর্যন্ত সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা মেয়রের বিরুদ্ধে করা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি পালন করেন পৌরসভার কাউন্সিলর ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। রাস্তাঘাট-অলিগলিতে ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার না করায় দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পযটকসহ সাধারণ মানুষকে দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে।
জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও পৌরসভার প্যানেল মেয়র-১ মাহবুবুর রহমান চৌধুরী বলেন, হত্যাচেষ্টা মামলা থেকে মেয়রকে অব্যাহতির আশ্বাসের ভিত্তিতে এবং জনদুর্ভোগ লাঘবে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি প্রত্যাহার করা হয়। তাঁরা মাঠে নেমেছিলেন মিথ্যা মামলার আসামি করে ‘মেয়রের সম্মানহানি’ করার কারণে। মোনাফ সিকদারকে গুলি করার পেছনে মেয়রের কোনো হাত ছিল না।

মামলার পর থেকে মেয়র মুজিবুর রহমান পৌর ভবনে না গেলেও তিনি শহরে অবস্থান করছেন। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, তিনি ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছেন। দলের কিছু প্রভাবশালী ছাত্রলীগের সাবেক ক্যাডার মোনাফ সিকদারকে দিয়ে তাঁকে হত্যাচেষ্টা মামলার আসামি করে বিতর্কিত করার চেষ্টা করছেন।

হত্যাচেষ্টা মামলায় আজ বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করেনি পুলিশ। এ প্রসঙ্গে ভারপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ঘটনার তদন্ত চলছে, পুলিশ তৎপর। আসামিদের আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন