বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আদালত ও থানা–পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার রাজধানীর তোপখানা রোড এলাকা থেকে গ্রাহকদের বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করার অভিযোগে এহসান গ্রুপের চেয়ারম্যান রাগীব আহসান ও তাঁর ভাই আবুল বাশার খানকে গ্রেপ্তার করে র‍্যাব। ওই দিন বিকেলে পিরোজপুর সদর থানা-পুলিশ রাগীবের দুই ভাই মাহমুদুল হাসান ও খাইরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে। রাগীবকে গ্রেপ্তারের পর পিরোজপুর সদর উপজেলার মূলগ্রাম গ্রামের বাসিন্দা হারুন অর রশিদ বাদী হয়ে রাগীবসহ চারজনকে আসামি করে ৯৭ জন গ্রাহকের ১ কোটি ১৫ লাখ ৫৫ হাজার ৯৩৩ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে স্থানীয় থানায় মামলা করেন।

গত শুক্রবার মাহমুদুল হাসান ও খাইরুল ইসলামকে ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। গত শনিবার বিকেলে র‍্যাব রাগীব আহসান ও আবুল বাশার খানকে পিরোজপুর সদর থানায় সোপর্দ করলে পুলিশ তাঁদের একই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায়। আজ আসামিদের রিমান্ড আবেদনের শুনানির জন্য পিরোজপুর জেলা কারাগার থেকে আদালতে নেওয়া হয়।

পিরোজপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ জেট এম মাসুদুজ্জামান বলেন, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা প্রত্যেক আসামিকে সাত দিন করে রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেন। আদালত সেই আবেদন মঞ্জুর করেন।

২০০৮ সালে পিরোজপুরে এহসান রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড বিল্ডার্স প্রতিষ্ঠা করেন রাগীব আহসান। পরে প্রতিষ্ঠানটির নতুন নাম দেওয়া হয় এহসান গ্রুপ। এটি এহসান মাল্টিপারপাস কো–অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেড, এহসান সঞ্চয় ও ঋণদান সমবায় সমিতি লিমিটেড, ড্যাফোডিল মাল্টিপারপাস কো–অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেড, এহসান বেসিক সঞ্চয় ও ঋণদান সমবায় সমিতি লিমিটেড এবং এস্টেট অ্যান্ড বিল্ডার্স লিমিটেড নামের পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের নামে অধিক মুনাফা দেওয়ার কথা বলে সঞ্চয় আমানত নিয়ে ব্যবসা শুরু করে।

গ্রাহকের টাকায় এই গ্রুপ হোটেল, মার্কেট, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ট্রাভেলস, বস্ত্র ব্যবসাসহ ১৭টি প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করে আসছিল। গ্রাহকদের বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিয়ে রাগীব আহসান পরিবারের সদস্য ও নিকটাত্মীয়দের নামে-বেনামে সম্পত্তি করেছেন। ২০১৯ সালের জুলাই মাস থেকে প্রতিষ্ঠানটি গ্রাহকদের মাসিক মুনাফা ও আমানতের টাকা ফেরত দেওয়া বন্ধ করে দেয়। এর পর থেকে প্রায়ই প্রতিষ্ঠানটির কার্যালয়ে জামানতের টাকা ফেরত পেতে ভিড় করতেন গ্রাহকেরা।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন