আত্রাই নদের আরও তিন সোতিজাল উচ্ছেদ

বিজ্ঞাপন
default-image

চলনবিল–অধ্যুষিত নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার আত্রাই নদ ও নদের শাখানদী থেকে আরও তিনটি অবৈধ সোতিজাল উচ্ছেদ করা হয়েছে। শনিবার সকাল থেকে উপজেলা প্রশাসন ও মৎস্য অধিদপ্তর যৌথভাবে এ অভিযান পরিচালনা করে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. তমাল হোসেন অভিযানে নেতৃত্ব দেন।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সরকারি নির্দেশ অমান্য করে স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিরা প্রভাব খাটিয়ে উপজেলা বিয়াঘাট ইউনিয়নের আত্রাই নদের সাবগাড়ি বাজার পয়েন্ট ও শাখানদীর হরদমা নালায় এবং খুবজীপুর ইউনিয়নের কালাকান্দর পয়েন্টের আত্রাই নদে বাঁধ দিয়ে অবাধে মাছ শিকার করছিলেন। গেল বৃহস্পতিবার আত্রাই নদের সাবগাড়ি বাজারসংলগ্ন পয়েন্টের আবদুল মান্নান গংদের এবং জ্ঞানদানগরে রবিউল করিমের স্থাপন করা দুইটি সোতিজাল উচ্ছেদ করা হয়েছিল। আজ শনিবার উপজেলার বিয়াঘাট ইউনিয়নের আত্রাই নদের শাখানদীর হরদমায় স্থাপিত দুইটি এবং কালাকান্দর এলাকায় একটি সোতিজাল উচ্ছেদ করেন ইউএনও তমাল হোসেন। তবে সোতিজালের সঙ্গে জড়িত কাউকে আটক বা জরিমানা করা হয়নি। দুইটি অভিযানের পর আত্রাই নদ ও শাখানদীতে আর কোনো সোতিজাল নেই বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
২০ জনের বেশি শ্রমিক নিয়োগ করে নদীর মাঝ বরাবর স্থাপন করা বাঁশের খুঁটিসহ তালাই এবং তাঁদের থাকার টংঘরগুলো গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এখন নির্বিঘ্নে নৌচলাচলসহ রক্ষা পাচ্ছে নানা প্রজাতির মাছ ও জলজ উদ্ভিদ
তমাল হোসেন, ইউএনও, গুরুদাসপুর

ইউএনও তমাল হোসেন জানান, আত্রাই নদের উভয় তীরে বাঁশ, চাটাই ও নেট জালের সাহায্যে বাঁধ দিয়ে নদীকে সংকুচিত করা হয়েছে। নদীর স্বাভাবিক প্রবাহিত পানির গতিকে বহুগুণ বাড়িয়ে কৃত্রিম স্রোত সৃষ্টি করে নিষিদ্ধ সোতিজাল পেতে মাছ শিকার করা হচ্ছে। এতে ছোট-বড় সব ধরনের মাছসহ জলজ প্রাণী ধরা পড়ছে। ফলে আত্রাইসহ বিভিন্ন নদ-নদী, জলাশয় ও চলনবিল এলাকায় ছোট-বড় মাছসহ জলজ প্রাণী বিলীন হয়ে যাচ্ছে।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

ইউএনও বলেন, ২০ জনের বেশি শ্রমিক নিয়োগ করে নদীর মাঝ বরাবর স্থাপন করা বাঁশের খুঁটিসহ তালাই এবং তাঁদের থাকার টংঘরগুলো গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এখন নির্বিঘ্নে নৌচলাচলসহ রক্ষা পাচ্ছে নানা প্রজাতির মাছ ও জলজ উদ্ভিদ। সোতিজালের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ারও উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আলমগীর কবির জানান, কমসংখ্যক লোকবলের কারণে সময়মতো একই সঙ্গে অভিযান চালিয়ে পাঁচটি সোতিজাল উচ্ছেদ সম্ভব হয়নি। এ কারণে দুই দিন সময় নেওয়া হয়।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0
বিজ্ঞাপন