লজ্জাবতী বানরটিকে বনে ফেরার মতো সুস্থতা পর্যবেক্ষণ ও পরিচর্যার জন্য এটিকে রাখা হয় জানকীছড়া রেসকিউ সেন্টারে। উদ্ধারের দিন বিকেল থেকেই লজ্জাবতী বানরটির পরিচর্যা ও পর্যবেক্ষণের দায়িত্বে আছে জার্মানির প্লামপ্লরিস ই ভি নামের একটি সংস্থা। সংস্থার পক্ষে লজ্জাবতী বানরটির দেখাশোনাকারী চঞ্চল গোয়ালা আজ শনিবার প্রথম আলোকে বলেন, বানরটি এখন মোটামুটি ভালো আছে। তবে কানে গরুর শরীরে থাকে এ রকম পোকায় ভরা। এ জন্য মাঝেমধ্যে ছটফট করে। সারা দিন ঘুমিয়ে কাটায়। সন্ধ্যা হলে আস্তে আস্তে জেগে ওঠে। চঞ্চল গোয়ালা বলেন, এটি একটি পরিণত বয়স্ক লজ্জাবতী বানর। এটিকে জিগাজাতীয় গাছের আঠা ও পোকা উৎপাদন করে খাওয়ানো হচ্ছে। পোকা তিনি নিজেই উৎপাদন করছেন।

আন্তর্জাতিক প্রকৃতি ও প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ সংঘ (আইইউসিএন) লজ্জাবতী বানরকে সংকটাপন্ন প্রাণী হিসেবে লাল তালিকাভুক্ত করেছে।

বন্য প্রাণী গবেষক মো. হাসান আল রাজী প্রথম আলোকে বলেন, ‘লজ্জাবতী বানর বাংলাদেশ ও বিশ্বে একটি বিপন্ন প্রাণী। বিভিন্ন কারণে দিন দিন এদের সংখ্যা কমে আসছে। বাংলাদেশে এই প্রাণী রক্ষায় জার্মান সংস্থা প্লামপ্লরিস ই ভির সহযোগিতায় বন বিভাগের সঙ্গে আমরা ২০১৫ থেকে কাজ করছি। এই কাজের একটি হলো আহত ও উদ্ধার হওয়া লজ্জাবতী বানরদের পুনর্বাসনকেন্দ্র তৈরি। মূল উদ্দেশ্য, উদ্ধার হওয়া লজ্জাবতী বানরের স্বাস্থ্য পরীক্ষার পর যথাযথ স্থানে অবমুক্ত করা।’

বন্য প্রাণী গবেষকদের সূত্রে জানা গেছে, আন্তর্জাতিক প্রকৃতি ও প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ সংঘ (আইইউসিএন) লজ্জাবতী বানরকে সংকটাপন্ন প্রাণী হিসেবে লাল তালিকাভুক্ত করেছে। লজ্জাবতী বানর লাজুক বানর নামেও পরিচিত। এটি দেশের ক্ষুদ্রতম বানর-জাতীয় প্রাণী। ইংরেজিতে এটিকে বেঙ্গল স্লো লরিস বা নর্থান স্লো লরিস বলে। বৈজ্ঞানিক নাম Nycticebus bengalensis। এরা বাংলাদেশে চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের চিরসবুজ বনের বাসিন্দা। এরা নিশাচর। বনের গভীরে উঁচু গাছে থাকতে পছন্দ করে। দিনে গাছের খোঁড়লে বা ঘন পাতার আড়ালে ঘুমিয়ে কাটায়। ঘুমালে শরীরকে গোল বলের মতো করে রাখে। বিরল, নিশাচর ও লাজুক হওয়ায় দিনে এদের সহজে চোখে পড়ে না। এগুলো গাছে গাছেই থাকে। সহজে মাটিতে নামে না। ধীরগতিতে চলাফেরা করে। এরা সাধারণত ফল, পাতা, উদ্ভিদের কষ বা নির্যাস ইত্যাদি খায়। মাঝেমধ্যে বড় কীটপতঙ্গ, পাখির ডিম-ছানা, সরীসৃপও খেয়ে থাকে।

বন্য প্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ শ্রীমঙ্গল রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. শহীদুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, বানরটি ভালো আছে। গবেষকেরা যেদিন স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে বলবেন ছাড়া যাবে, তখন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলাপ করে বনে অবমুক্ত করা হবে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন