পঞ্চগড় সদর থানায় দায়ের করা এজাহারে বিশেষ পিপি আজিজার রহমান উল্লেখ করেন, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল আদালতের স্টেনো কক্ষে মজনুকে বসে থাকতে দেখে তাঁর ছেলে সোহরাওয়ার্দী সেখানে বসে থাকার কারণ জানতে চান। এতে দুজনের মধ্যে কথা–কাটাকাটির একপর্যায়ে মজনু মিয়া সোহরাওয়ার্দীকে মারধর শুরু করেন এবং গলা টিপে হত্যার চেষ্টা করেন। এ ছাড়া মজনু মিয়া আদালতে এসে বিভিন্ন লোকজনের কাছে আইনজীবীর সহকারী পরিচয় দিয়ে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেন বলে তিনি অভিযোগে উল্লেখ করেছেন।

পাল্টা এজাহারে মজনুর ছোট ভাই মোশারফ হোসেন উল্লেখ করেন, কিছুদিন আগে তাঁর ভাই মজনু মিয়া পঞ্চগড় আদালতের একজন আইনজীবীর সহকারী হিসেবে যোগ দেন। পরবর্তী সময়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল আদালতের বিশেষ পিপি আজিজার রহমান মজনুকে বুঝিয়ে নিজের চেম্বারে কাজ করতে বলেন। মজনু সেখানে কাজ করা শুরু করেন। একপর্যায়ে মজনুকে ওই আদালতে মাস্টাররোল পিয়ন হিসেবে চাকরি দেওয়ার কথা বলে আজিজার এক লাখ টাকা চান। গত ১০ মার্চ আজিজারের বাড়িতে গিয়ে ৫০ হাজার টাকা দিয়ে আসেন মজনুর বাড়ির লোকজন। এ ছাড়া বাকি ৫০ হাজার টাকা ৫ মে দেওয়ার কথা ছিল। ওই টাকা না দেওয়ার কারণেই তাঁর বড় ভাইকে আজিজারের ছেলে মারধর করেন।

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল আদালতের বেঞ্চ সহকারী ক্ষীরোত প্রসাদ সিংহ বলেন, মজনু মিয়া নামের ওই ব্যক্তি তাঁদের স্থায়ী কোনো কর্মী নন। তিনি একসময় আদালতের বিশেষ পিপির চেম্বারে সহকারী হিসেবে কাজ করতেন। অল্প কিছুদিন ধরে তিনি অস্থায়ী কর্মী হিসেবে তাঁদের কার্যক্রমে সহায়তা করছিলেন। মঙ্গলবারের হাতাহাতির ঘটনাটি স্টেনো কক্ষ–সংলগ্ন বিশেষ পিপির চেম্বারে ঘটেছে বলে শুনেছেন ক্ষীরোত প্রসাদ।

বুধবার বিকেলে আটক মজনু মিয়ার ছোট ভাই মোশারফ হোসেন বলেন, ‘আমার ভাইকে মারধর করার পর আবার তাকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। আমরা নিরীহ মানুষ বলেই বিশেষ পিপি আজিজার রহমান ও তাঁর ছেলে এভাবে আমার ভাইকে মারধর করেছেন। এখন আমার ভাইয়ের জামিনের জন্য আদালতে আবেদন করতেছি।’

আজিজার রহমান বলেন, ‘মজনু মিয়া নামের ওই ব্যক্তিকে কোনো প্রকার মারধর করা হয়নি, বরং তিনি আমার চেম্বারে আমার ছেলেকে মারধর করে তাঁর গলা টিপে ধরেন। এ সময় পরিস্থিতি দেখেই আমি বিষয়টি পুলিশকে জানাই এবং মজনু মিয়াকে পুলিশের হাতে সোপর্দ করি।’

মঙ্গলবার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে বিশেষ পিপির ফোন পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয় বলে জানান পঞ্চগড় সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল লতিফ মিঞা। তিনি বলেন, মজনু মিয়া নামের ওই ব্যক্তিকে থানায় নিয়ে আসা হয়। পরবর্তী সময়ে দুই পক্ষ দুটি লিখিত অভিযোগ থানায় জমা দিয়েছে। অভিযোগ দুটি তদন্ত করা হচ্ছে। সেই সঙ্গে বুধবার দুপুরে আটক মজনু মিয়াকে ১৫১ ধারায় চালান দিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন