বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

শুক্রবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে হৃদয় মিয়া তাঁর বাবা নিদন মিয়াকে (৫৩) দা দিয়ে কুপিয়ে জখম করেন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল শনিবার ভোরে নিদন মিয়া মারা যান।

জবানবন্দিতে হৃদয় বলেন, বুধবার রাতে হৃদয় তাঁর বাবার কাছে টাকা চাইলে নিদন মিয়া টাকা দিকে অস্বীকৃতি জানান। এ সময় হৃদয়ের মা সাফিয়া আক্তার ছেলের পক্ষ নেন। এতে নিদন মিয়া ক্ষিপ্ত হয়ে সাফিয়াকে মারধর করেন। এই ঘটনার পর বাবাকে হত্যার হুমকি দেন হৃদয়। এরপর থেকে নিদন মিয়া আর বাড়িতে থাকতেন না। রাতে নিদন মিয়া স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের কক্ষে ঘুমাতেন।

এদিকে শুক্রবার রাতে একটি চায়ের দোকান থেকে চা পান করে ঘুমানোর জন্য নিদন ওই বিদ্যালয়ের দিকে যাচ্ছিলেন। এ সময় পৌর শহরের দড়ি চরিয়াকোনা এলাকায় বাবাকে একা পেয়ে হৃদয় তাঁকে কুপিয়ে জখম করেন।

স্থানীয় ব্যক্তিরা জানান, নিহত নিদনের (৫৩) বাড়ি কটিয়াদী পৌর শহরের দড়ি চরিয়াকোনা এলাকার বাসিন্দা। তিনি পেশায় কৃষক ছিলেন। হৃদয় বছরখানেক আগে মাদকাসক্ত হয়ে পড়েন। কয়েক মাস আগ থেকেই পরিবারের সঙ্গে হৃদয়ের দূরত্ব বাড়ে। সম্প্রতি বাবার কাছে ঘন ঘন টাকাপয়সা চাইতেন। না পেলে বাড়িঘর ও আসবাব ভাঙচুর করতেন।

মামলার বাদী হৃদয়ের ভাই রতন মিয়া বলেন, ‘ছেলেই বাবাকে খুন করেছে—এই সত্য কারও অজানা নয়। আদালতে স্বীকারোক্তি দেওয়ায় সত্যটি আর সত্য হলো। তবে পরিবারের একজন হিসেবে এই সত্য কোনোভাবেই মানতে পারছি না। সমাজের সামনে মুখ দেখাতে পারছি না। আমরা ছোট হয়ে গেলাম।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন