এর আগে বেলা সোয়া তিনটায় ঢোল, সানাইয়ের সুর আর দর্শনার্থীদের উচ্ছ্বাসে শুরু হয় আবদুল জব্বারের বলীখেলা। ২০ ফুট বাই ২০ ফুটের রিংয়ে ওঠেন দুই বলী। একে একে প্রায় ৭০ জন বলী রিংয়ে ওঠেন। তবে ফাইনাল ম্যাচটি শেষ হয় নানা নাটকীয়তায়। ফাইনাল খেলা চলে চার ভাগে। প্রথমে ১৭ মিনিট ৪০ সেকেন্ডের মতো খেলা হয়। পরে তিন মিনিট, পাঁচ মিনিট, দুই মিনিট করে সময় বাড়ানো হয়। কিন্তু কেউ হারেননি। পরে মেয়র মো. রেজাউল করিম চৌধুরী আর তিন মিনিট সময় বাড়ান। শেষে তিন পয়েন্ট নিয়ে চ্যাম্পিয়ন হন জীবন বলী।

গত রোববার শুরু হয় বৈশাখী মেলার ১১৩তম আসর। মেলা ওই দিন শুরু হলেও বলীখেলা অনুষ্ঠিত হয় আজ সোমবার। খেলা উপলক্ষে লালদীঘির মোড়ে রিং তৈরি করা হয়। মোড়ের আশপাশে বিভিন্ন পণ্যের পসরা নিয়ে বসেছেন শতাধিক বিক্রেতা। তবে খেলা উপলক্ষে দর্শনার্থীরা বেলা একটা থেকেই মোড়ে চলে আসেন। বেলা আড়াইটায় ঢোল আর সানাই নিয়ে রিং প্রাঙ্গণে হাজির হন বলীরা।

বেলা তিনটার দিকে বেলুন উড়িয়ে খেলা উদ্বোধন করেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের পুলিশ কমিশনার সালেহ মোহাম্মদ তানভীর। এ সময় মাফিজুর রহমান নামের এক বলীর সঙ্গে কথা হয়। তিনি জানান, তাঁর বয়স বর্তমানে ৭০। ১২ বছর বয়সে বাবার হাত ধরে বলীখেলার রিংয়ে উঠেছিলেন তিনি। এর পর থেকে প্রতিবছরই তিনি বলী খেলেছেন। তিনবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন। পেশায় তিনি কৃষক। বাড়ি হাটহাজারী উপজেলায়। করোনার কারণে দুইবার আসতে পারেননি। এবার তাই বাড়তি উচ্ছ্বাস নিয়ে হাজির হয়েছেন তিনি।

১৯০৯ সালে বকশীর হাটের ব্যবসায়ী আবদুল জব্বার সওদাগর যুবসমাজকে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে উদ্বুদ্ধ করতে বলীখেলার সূচনা করেছিলেন। এর পর থেকে প্রতিবছর ১২ বৈশাখ বলীখেলা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। এবার মাঠসংকটের কারণে বলীখেলা হবে না বলে ঘোষণা এসেছিল। পরে আবার সিদ্ধান্ত বদল করে সিটি করপোরেশন। ১৬ এপ্রিল আবদুল জব্বার স্মৃতি কুস্তি প্রতিযোগিতা ও মেলা কমিটির সঙ্গে আলোচনা শেষে সিটি মেয়র এম রেজাউল করিম চৌধুরী মেলা আয়োজনের ঘোষণা দেন।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন