বিজ্ঞাপন

ইউএনওর বাসভবনের দেয়ালে ময়লা-আবর্জনার স্তূপের বিষয়ে ফেসবুকে দৃষ্টি আকর্ষণকারীদের একজন শরীয়তপুর শহরের তুলাশার এলাকার বাসিন্দা মনির হোসেন সাজিদ। তিনি বলেন, ‘সদর ইউএনওর বাসভবনের দেয়াল ঘেঁষে ময়লা-আবর্জনার স্তূপ জমে ছিল। কেউ তা পরিষ্কার করছিল না। এর আগে ফেসবুকে লেখালেখির কারণে সদরের নবাগত ইউএনও মনদীপ ঘরাই বিভিন্ন ভালো উদ্যোগ নেন। সেই কারণেই ওই স্থানের ছবি তুলে ফেসবুকে পোস্ট করি। তাঁর নজরে এলে তিনি দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে ওই স্থানটি পরিচ্ছন্ন করার উদ্যোগ নেন। কিন্তু আমাদের চমকে দিয়ে তিনি ওই স্থানে উন্মুক্ত পাঠাগার নির্মাণ করবেন, তা ভাবতেও পারিনি।’

default-image

ইউএনও মনদীপ ঘরাই প্রথম আলোকে বলেন, ময়লা-আবর্জনার স্তূপের কারণে যে স্থানটির পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় মানুষ বিরক্ত হতো, আজ সেখানে জ্ঞানচর্চার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এ পরিবর্তনটুকু আনতে পেরে খুব আনন্দ লাগছে। উন্মুক্ত এ পাঠাগারে ২১ জন লেখকের বই রয়েছে। কোনো পাঠক চাইলে বাড়িতে নিয়েও বই পড়তে পারবেন। পড়া শেষে তাঁকে পাঠাগারে বই রেখে যেতে হবে। আপাতত আমি পরিচিত ও স্বজনদের সহায়তায় পাঠাগারটি চালু করেছি। জেলা প্রশাসক স্যারও উৎসাহ দিয়েছেন, সহায়তা করেছেন।’

অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ও সাহিত্যিক শ্যামসুন্দর দেবনাথ বলেন, নানা কারণে বই পড়ার পরিবেশ এখন সংকুচিত হয়ে যাচ্ছে। এমন একটি পরিবেশে পথের কাছে উন্মুক্ত পাঠাগার একটি অসাধারণ উদ্যোগ। ময়লা-আবর্জনা ফেলার স্থানে পাঠাগার নির্মাণ—এটা নাগরিকদের মনোজগতেও পরিবর্তন আনবে।

এ বিষয়ে শরীয়তপুরের জেলা প্রশাসক মো. পারভেজ হাসান প্রথম আলোকে বলেন, ‘ভাষার মাসে আমার এক সহকর্মীর দেয়ালে উন্মুক্ত পাঠাগার নির্মাণের উদ্যোগ আমাদের অভিভূত করেছে। অন্ধকার দূর করে আলোর পথে চলতে হবে। আর আলোকিত হতে হলে বইকে নিত্যদিনের সঙ্গী করতে হবে। এমন আলোকিত অভিযাত্রায় জেলা প্রশাসন সর্বদা পাশে থাকবে।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন