default-image

চতুর্থ ধাপে ৫৫টি পৌরসভা নির্বাচনে শুধু সাতক্ষীরায় মেয়র পদে বিএনপির প্রার্থী জয় লাভ করেছেন। আওয়ামী লীগের প্রার্থী কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেননি। ভোটের হিসাবে নৌকার প্রার্থী তৃতীয় হয়েছেন।

আওয়ামী লীগ প্রার্থীর ভরাডুবির কারণ কী? নির্বাচনের পর দলের নেতা-কর্মীদের আলোচনায় বিষয়টি ঘুরেফিরে আসছে। তাঁদের অনেকে বলছেন, সাংগঠনিক দুর্বলতা, দলীয় নেতা–কর্মীদের সমন্বয়হীনতা ও অতি আত্মবিশ্বাস নৌকার প্রার্থীর পরাজয় ডেকে এনেছে। এ ছাড়া বিএনপি-জামায়াত ঐক্য ও কালো টাকার প্রভাব পড়েছে নির্বাচনে।

গত রোববার সাতক্ষীরা পৌরসভা নির্বাচনে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। এখানে মেয়র পদে প্রার্থী ছিলেন পাঁচজন। জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক তাজকিন আহমেদ ২৫ হাজার ৮৮ ভোট পেয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন। নৌকা প্রতীক নিয়ে তৃতীয় স্থানে রয়েছেন পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ নাসেরুল হক। তিনি পেয়েছেন ১৩ হাজার ৫০ ভোট। দ্বিতীয় স্থানে থাকা স্বতন্ত্র প্রার্থী জেলা যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নাসিম ফারুক খান পেয়েছেন ১৩ হাজার ২২১ ভোট।

বিজ্ঞাপন

পরাজিত হলেও ২০১৫ সালের তুলনায় এবার নৌকার প্রার্থীর ফল কিছুটা ভালো। আগের নির্বাচনে সাতক্ষীরা পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহাদাৎ হোসেন নৌকা প্রতীকে পেয়েছিলেন ৯ হাজার ৭২ ভোট। ভোটের হিসাবে তিনি চতুর্থ অবস্থানে ছিলেন।

দ্বিতীয় ধাপে জেলার কলারোয়া পৌর নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর জয়ী হওয়ার পর অনেকে সাতক্ষীরায় দলের জয় নিয়ে আশাবাদী হয়েছিলেন। তবে আওয়ামী প্রার্থীর চেয়ে বিএনপির প্রার্থী দ্বিগুণ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। এ সম্পর্কে আওয়ামী লীগ নেতা ও সাতক্ষীরা সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান বলেন, দলের সাংগঠনিক দুর্বলতার কথা বলার অপেক্ষা রাখে না। তারপর একটা পর্যায়ে মাঠে কর্মীদের না থাকা, জামায়াত-বিএনপির ঐক্য, প্রশাসনের বৈরী আচরণ ও কালো টাকার দৌরাত্ম্যে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর পরাজয় হয়েছে।

তিনটি চোরাচালানি চক্র আওয়ামী লীগ প্রার্থীর বিপক্ষে কাজ করেছে দাবি করে জেলা আওয়ামী লীগের প্রথম যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ফিরোজ কামাল বলেন, ভোটে অর্থনৈতিক প্রভাব পড়েছে। এ ছাড়া দলের নেতা-কর্মীদের আত্মসন্তুষ্টিতে ভোগা, প্রশাসনের নিরপেক্ষতা হারানো ও জাতীয় পার্টির ভোটে নিয়ন্ত্রণ না থাকায় নৌকার পরাজয় হয়েছে।

তবে নৌকার প্রার্থী শেখ নাসেরুল হক মনে করেন, দলীয়ভাবে তেমন কোনো দুর্বলতা ছিল না। কর্মীরা ছাড়াও নেতৃত্ব স্থানীয় সবাই তাঁর পক্ষে ছিলেন। তাঁর পরাজয় হয়েছে জামায়াত-বিএনপির ভোটের আগের দিন ঐক্য হওয়ায় এবং বিএনপি প্রার্থী তাজকিন আহমেদ ও স্বতন্ত্র প্রার্থী নাসিম ফারুক খান আর্থিকভাবে এগিয়ে থাকায়। এ ছাড়া এখনকার অধিকাংশ মানুষ আওয়ামী লীগ–বিরোধী, যা চেষ্টা করেও পরিবর্তন করা যায়নি।

বিজ্ঞাপন

নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থীর জয়ের পেছনে জামায়াতের সঙ্গে ঐক্যের বিষয়টি উঠে এসেছে। কিন্তু সুযোগ থাকলেও জাতীয় পার্টির সঙ্গে ঐক্য করেনি আওয়ামী লীগ। এ সম্পর্কে ওয়ার্কার্স পার্টির জেলা শাখার সম্পাদক ও জেলা নাগরিক আন্দোলন মঞ্চের সভাপতি ফাহিমুল হক বলেন, জাতীয় পার্টি তিনটি ওয়ার্ডে কাউন্সিলর প্রার্থীর মনোনয়নে আওয়ামী লীগের সমর্থন চেয়েও পায়নি। জাতীয় পার্টি, আওয়ামী লীগ ও ওয়ার্কার্স পার্টির জেলার উচ্চপর্যায়ের সমন্বয় সভা হওয়ার কথা থাকলেও তা হয়নি। নৌকার প্রার্থীর পরাজয়ের প্রধান কারণ আত্মতুষ্টি। এ ছাড়া নির্বাচনে সমন্বয়হীনতা, আন্তরিকতা ও দূরদর্শিতার অভাব ছিল।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন