বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

বর্তমানে প্রায় ১০০ কোটি টাকা ব্যয়ে খুলনার জিরো পয়েন্ট থেকে ময়লাপোতা পর্যন্ত শেরেবাংলা সড়ক চার লেনে উন্নীত করার কাজ চলছে। ওই সড়ক নির্মাণ ও বিআইডব্লিউটিএর সুপারিশ মাথায় নিয়ে গল্লামারী এলাকায় নতুন একটি সেতু নির্মাণের প্রস্তাবনা তৈরি করেছে সড়ক বিভাগ। ইতিমধ্যে প্রকল্প প্রস্তাবনা সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।

সড়ক বিভাগ থেকে জানা গেছে, নদী রক্ষা কমিশনের সুপারিশ ও বিআইডব্লিউটিএর মতামতের পরিপ্রেক্ষিতে নদ থেকে ১৫ ফুট উচ্চতায় নতুন সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে ময়ূর নদ দিয়ে যান চলাচলের ব্যবস্থা রাখতেই নতুন সেতু নির্মাণ করা হচ্ছে। নতুন সেতুটি হবে চার লেনবিশিষ্ট। সেতুটি নির্মাণ করতে নদের মধ্যে কোনো পিলার হবে না। ঢাকার হাতিরঝিলের মতো ঝুলন্ত সেতু নির্মাণ করা হবে। এর দৈর্ঘ্য হবে ৭৪ মিটার ও প্রস্থ ২২ মিটার। পানি থেকে সেতুর উচ্চতা থাকবে কমপক্ষে ৭ মিটার। এতে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৫৬ কোটি টাকা।

এ সম্পর্কে সড়ক বিভাগ খুলনার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আনিসুজ্জামান বলেন, গল্লামারীতে ময়ূর নদের ওপর থাকা পুরোনো সেতুটি পাকিস্তান আমলের। সেটি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় পাশেই আরেকটি সেতু নির্মাণ করা হয়। ময়ূর নদ অনেকটা শুকিয়ে গিয়েছিল। এ কারণে সেখানে কম উচ্চতার সেতু নির্মাণ করা হয়েছিল। পরে নদটি পুনঃখনন করে নৌযান চলাচলের উপযোগী করার পরিকল্পনা করায় নতুন সেতুটি ভেঙে ফেলার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।

মো. আনিসুজ্জামান আরও বলেন, বর্তমানে নকশা যাচাই-বাছাই কাজ করছে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট)। নকশা চূড়ান্ত ও মন্ত্রণালয়ে অনুমোদন হলেই নতুন সেতু নির্মাণের দরপত্র আহ্বান করা হবে। তখন পুরোনো দুটি সেতুই ভেঙে ফেলা হবে। আগামী কয়েক মাসের মধ্যে সেতুটির নির্মাণকাজ শুরু হতে পারে।

নির্মাণের সাত বছর পরই সেতু ভেঙে ফেলতে হচ্ছে। এ বিষয়ে খুলনার নাগরিক সমাজের নেতারা বলছেন, অপরিকল্পিতভাবে নির্মিত নতুন সেতুটির ভেঙে ফেলার দায় নিতে হবে সড়ক বিভাগকেই। মাত্র সাত বছরের মধ্যে সেতুটি ভেঙে ফেলায় গচ্চা যাচ্ছে সাত কোটি টাকা। ওই অপরিকল্পিত কাজের সঙ্গে কারা জড়িত, তদন্ত করে তা চিহ্নিত করে তাঁদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে।

বৃহত্তর খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির সভাপতি শেখ আশরাফ উজ জামান প্রথম আলোকে বলেন, ‘দেশে সুদূরপ্রসারী কোনো পরিকল্পনা করে প্রকল্প তৈরি করা হয় না। এর অন্যতম প্রমাণ গল্লামারী সেতু। এতে জনগণ ও সরকারের টাকার অপচয় হয়। কিন্তু লাভবান হন একশ্রেণির মানুষ। আমাদের আন্দোলনের পরও কার স্বার্থে সেতুটি নির্মাণ করা হয়েছিল, তা তদন্ত করে অপরাধীদের শাস্তি দেওয়া উচিত।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন