বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আবদুস সালাম মোড়লের মতো মহাকাল গ্রামের ২৭টি পরিবারের বসতভিটা ভাঙনের কবলে পড়েছে।

আমার পাঁচ শতক জমি খালের ভেতর চলে গেছে। এবার ভাঙন খুব বেশি। যেকোনো সময় আমার গোয়ালটি খালের মধ্যে চলে যেতে পারে।
মধু চন্দ্র পাল, অভয়নগরের মহাকাল গ্রামের বাসিন্দা

বিল ঝিকরার রাজাপুর খাল থেকে বেরিয়েছে আমডাঙ্গা খাল। এরপর এঁকেবেঁকে খালটি ভৈরব নদের সঙ্গে মিশেছে। গত শনিবার গিয়ে দেখা যায়, মহাকাল গ্রামের যশোর-খুলনা মহাসড়ক থেকে ভৈরব নদ পর্যন্ত এলাকায় খালের দুই পাড়ে বসতবাড়ি। ওই এলাকায় খালের দুই পাড় ভাঙছে। ভাঙনে কয়েকটি বসতবাড়ির কিছু অংশ ভেঙে খালের মধ্যে পড়েছে। ভাঙন চলে এসেছে কয়েকটি বসতবাড়ি পর্যন্ত।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০০৬ সালে যশোরের ভবদহ অঞ্চলে ভয়াবহ জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। ২০০৭ সালে এই অঞ্চলের পানিনিষ্কাশনের অন্যতম মাধ্যম হিসেবে এলাকাবাসী স্বেচ্ছাশ্রমে বিল ঝিকরা থেকে ভৈরব নদ পর্যন্ত প্রায় চার কিলোমিটার আমডাঙ্গা খাল পুনঃখনন করে। এরপর পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) যশোর-খুলনা মহাসড়কের ওপর ছয় কপাটের (ভেন্ট) একটি স্লুইসগেট নির্মাণ করেন। স্লুইসগেট থেকে উত্তর-পূর্ব দিকে প্রায় ৭০০ মিটার দূরে ভৈরব নদ। খালের এই অংশের দুই পাড়ে বসতবাড়ি। খালটি কাটার পর পাউবো খালের ভেতর ও দুই পাড়ে সিমেন্ট, পাথর ও বালু দিয়ে তৈরি করা ব্লক দিয়ে দেয়। গত বছর জলাবদ্ধ এলাকার ভুক্তভোগী মানুষ খালের ভেতরের থাকা ব্লকগুলো অপসারণ করে। এরপর খালের দুই পাড় ভাঙতে শুরু করে। চলতি বছর বর্ষা শুরু হলে খালে পানির স্রোত বেড়ে যায়। স্রোতের তোড়ে ব্যাপকভাবে খালপাড়ের ভাঙন শুরু হয়।

গ্রামের মধু চন্দ্র পালের খালপাড়ে থাকা গোয়ালটি কয়েক বছর আগেই খালের ভেতর চলে গেছে। এবার বর্ষা মৌসুমের শুরুতেই তাঁর শৌচাগারটি ভাঙনের কবলে পড়ে। পাড় থেকে উত্তর দিকে সরিয়ে নেওয়া গোয়ালটিও এখন হুমকির মুখে। তিনি বলেন, ‘খালটি কাটার পর থেকে আমার পাঁচ শতক জমি খালের ভেতর চলে গেছে। এবার ভাঙন খুব বেশি। যেকোনো সময় আমার গোয়ালটি খালের মধ্যে চলে যেতে পারে।’

দীনবন্ধু সরকার বলেন, ‘আমডাঙ্গা খালের ভাঙনে এ পর্যন্ত ছয়টি ঘর ভেঙে পড়েছে। বাড়ির আঙিনাসহ বেশ কয়েকটি পরিবারের ঘরবাড়ি যেকোনো সময় ভেঙে খালের মধ্যে পড়তে পারে। খালের ভাঙন রোধে পানি উন্নয়ন বোর্ড, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতাদের
কাছে অনেকবার ধরনা দিয়েছি। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি।’

পাউবোর যশোর কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী তাওহিদুল ইসলাম বলেন, আমডাঙ্গা খাল যাতে না ভাঙে, সে জন্য ব্লক দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু নিষেধ সত্ত্বেও গত বছর জলাবদ্ধতার সময় স্থানীয় লোকজন খালের ব্লক তুলে ফেলায় ভাঙন সৃষ্টি হয়েছে। সেখানে ৪৫০ মিটার এলাকায় ব্লক বসাতে হবে। ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ ও জমি অধিগ্রহণ করে খালটি বড় করার জন্য উন্নয়ন প্রস্তাব পরিকল্পনা (ডিপিপি) তৈরি করা হয়েছে। ডিপিপি পাস হতে কিছুটা সময় লাগবে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন