default-image

মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার নতুন বসতি গ্রামের হাফিজ উদ্দিন (৩৮) শুভযাত্রা পরিবহনের বাসের চালক। এই পরিবহনের বাসগুলো মানিকগঞ্জ থেকে ঢাকার গুলিস্তানে চলাচল করে থাকে। দেশের মহানগরগুলোতে গণপরিবহন চলাচল করলেও করোনার প্রকোপ ঠেকাতে সরকারের বিধিনিষেধে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে গণপরিবহন চলাচল এখনো বন্ধ। এতে চরম সমস্যায় পড়েছেন হাফিজের মতো এই মহাসড়কের পরিবহনশ্রমিকেরা।

আজ শনিবার সকালে বাসস্ট্যান্ড এলাকায় কথা হয় হাফিজের সঙ্গে। দুশ্চিন্তার ছাপ তাঁর চোখেমুখে। বললেন, ‘আমরা দিন আনি দিন খাই। ঋণের কিস্তি আছে। গাড়ি বন্ধ, উপার্জনও বন্ধ। চাল-ডাল কিনমু, না কিস্তির ট্যাকা দিমু? কিস্তি না দিলে এনজিওর লোকজন দুর্ব্যবহার করে। তারা আসলে বাড়ি থেকে পালিয়ে থাকি।’ তাঁর প্রশ্ন, ‘সবকিছু ঠিকঠাক চলছে। ঢাকাসহ বিভিন্ন শহরে গণপরিবহন চলছে। তবে আমরা কেন বৈষমের শিকার?’ এমন প্রশ্ন ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক ও জেলার বিভিন্ন রুটে চলাচলকারী বিভিন্ন পরিবহনের শ্রমিকদের।

গণপরিবহনের কয়েকজন শ্রমিক বলেন, গত বছরের লকডাউনে প্রায় তিন মাস গণপরিবহন চলাচল বন্ধ ছিল। সে সময় উপার্জন বন্ধ থাকায় স্ত্রী-সন্তানের মুখে দুই বেলা দুমুঠো ভাত তুলে দিতে অনেক কষ্ট হয়েছিল তাঁদের। ধারদেনা করে সংসারের খরচ জোগাড় করতে হয়েছিল। শ্রমিকদের কেউ কেউ সরকারি ও পরিবহনমালিক-শ্রমিকদের সামান্য সহযোগিতা পান। তবে তা দিয়ে কয়েক দিনও চলেনি। এবারও কঠোর বিধিনিষেধ শুরু হওয়ার পর থেকে গণপরিবহন বন্ধ থাকায় তাঁরা দুর্ভোগে পড়েছেন।

কয়েকজন পরিবহনমালিক ও শ্রমিক অভিযোগ করেন, পরিবহনমালিক ও শ্রমিকদের কল্যাণের নামে বিভিন্ন পরিবহন থেকে অর্থ আদায় করা হয়। অথচ চলমান লকডাউনে শ্রমিক ও মালিকেরা অর্থকষ্টে থাকলেও মালিক বা শ্রমিক সমিতির নেতাদের কেউ এগিয়ে আসেননি।

বিজ্ঞাপন

জেলা বাস মালিক সমিতির দেওয়া তথ্যমতে, ঢাকা–মানিকগঞ্জ ও জেলার অভ্যন্তরীণ রুটে প্রায় দুই হাজার বাস চলাচল করে। এ ছাড়া জেলার বিভিন্ন সড়কে পাঁচ হাজারের বেশি সিএনজিচালিত অটোরিকশা চলাচল করে। এসব পরিবহনে অন্তত ১০ হাজার শ্রমিক নিয়োজিত আছেন। এসব পরিবহন বন্ধ থাকায় দুর্ভোগে পড়েছেন তাঁরা।

জেলা সদরের বৈতরা গ্রামের বাসিন্দা বাসচালক হানিফ মিয়া (৩৪) বলেন, ‘গাড়ি চালাইয়্যাই খাই। ঘরে স্ত্রী, দুই সন্তান আছে। তাঁদের মুখে ভাত তুলে দিতে হিমশিমে পড়েছি।’

এসব গণপরিবহন বন্ধ থাকায় শুধু শ্রমিকেরাই নন, মালিকেরাও পড়েছেন বিপাকে। অনেকে ঋণ নিয়ে বাস কিনেছেন। প্রতি সপ্তাহে সেই ঋণের কিস্তির টাকা পরিশোধ করতে হয়। পৌর এলাকার মানরা গ্রামের স্বপ্ন পরিবহনের বাসের মালিক সিদ্দিকুর রহমান বলেন, কিস্তির টাকায় বাস কিনেছেন তিনি। এখনো ৪ লাখ ৭৭ হাজার টাকা বকেয়া আছে। বাস চলাচল বন্ধ থাকায় ঋণের কিস্তি দিতে পারছেন না। পাশাপাশি সংসারের খরচ তো আছেই।

জেলা বাস মালিক সমিতির সভাপতি জাহিদুল ইসলাম বলেন, স্বাস্থ্যবিধি মেনে মহানগরে বাস চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। দোকানপাটও খুলছে। তবে ঢাকা-আরিচাসহ বিভিন্ন মহাসড়কে গণপরিবহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। জেলায় বিভিন্ন সড়কে গণপরিবহন রয়েছে। এতে পরিবহনশ্রমিক ও মালিকেরা কষ্টের মধ্যে পড়েছেন। স্বাস্থ্যবিধি মেনে বন্ধ থাকা গণপরিবহন চলাচলের অনুমতি দেওয়ার দাবি জানান তিনি।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন