বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দুপুর ১২টার দিকে প্রতিনিধিদলের সদস্যরা লম্বাশিয়া আশ্রয়শিবিরের ডি ব্লকের ‘আরাকান রোহিঙ্গা সোসাইটি ফর পিস অ্যান্ড হিউম্যান রাইটস’ (এআরএসপিএইচ) সংগঠনের কার্যালয় পরিদর্শন করেন এবং হত্যাকাণ্ডের ব্যাপারে সেখানে উপস্থিত আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) ও কয়েকজন রোহিঙ্গার সঙ্গে কথা বলেন। সংগঠনটির চেয়ারম্যান ছিলেন মুহিবুল্লাহ। পরে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন, ভাসানচর আশ্রয়শিবিরে রোহিঙ্গা স্থানান্তর নিয়ে ক্যাম্পের রোহিঙ্গা নেতা, ক্যাম্প ব্যবস্থাপনা কমিটি, ক্যাম্পে কর্মরত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে বৈঠক করেন। তবে নিরাপত্তার অজুহাতে ক্যাম্পে কোনো গণমাধ্যমকর্মীদের প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি।

ভাসানচরের কাজ করার ব্যাপারে জাতিসংঘের সঙ্গে সরকারের চুক্তি হয়েছে। এখন থেকে কক্সবাজারের রোহিঙ্গাদের মতো ভাসানচরের শরণার্থীরাও সুযোগ–সুবিধা পাবে।
মাসুদ বিন মোমেন, পররাষ্ট্রসচিব

এ সময় উপস্থিত ছিলেন পশ্চিম ইউরোপ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মহাপরিচালক ফায়াজ মুর্শিদ কাজি, পররাষ্ট্রসচিব দপ্তরের মহাপরিচালক মো. আলীমুজ্জামান ও সহকারী সচিব শোযাইব-উল-ইসলাম দরফদার, অতিরিক্ত শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মোহাম্মদ সামছু-দ্দৌজা, উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নিজাম উদ্দিন আহমেদ, ১৪ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) অধিনায়ক ও পুলিশ সুপার নাইমুল হক।

বিকেলে কক্সবাজার বিমানবন্দরে ক্যাম্প পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে পররাষ্ট্রসচিব সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা সবকিছু দেখার চেষ্টা করলাম, বোঝার চেষ্টা করলাম, প্রত্যাবাসনের ব্যাপারে রোহিঙ্গাদের সাথে কথা বললাম, তারা যেতে আগ্রহী। করোনা পরিস্থিতিতে কীভাবে রোহিঙ্গা শিবিরে কাজকর্ম হয়েছে, সেটাও আমরা দেখলাম।’ পুরো ক্যাম্পে এ পর্যন্ত করোনায় মাত্র ৩২ জন রোহিঙ্গা মারা গেছে বলেও জানান মাসুদ বিন মোমেন।

পররাষ্ট্রসচিব বলেন, ‘মুহিবুল্লাহর হত্যাকাণ্ড দুঃখজনক। আমরা মুহিবুল্লাহর পরিবারের সাথে দেখা করেছি, ভাইয়ের সাথে কথা বলেছি। তাদের যে সংগঠন, তাদের কর্মকাণ্ড নিয়ে আলাপ হয়েছে, ভবিষ্যতে তারা কীভাবে কাজ করবে, তা নিয়েও আলাপ হয়েছে। আমাদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যারা আছে, তাদের সবার সাথে আলাপ হয়েছে, তারাও গুরুত্বসহকারে মুহিবুল্লাহ হত্যার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করেছে। ইতিমধ্যে পাঁচজনকে ধরাও হয়েছে। বাকিদেরও ধরার চেষ্টা হচ্ছে।’

পররাষ্ট্রসচিব বলেন, ভাসানচরের কাজ করার ব্যাপারে জাতিসংঘের সঙ্গে সরকারের চুক্তি হয়েছে। এখন থেকে কক্সবাজারের রোহিঙ্গাদের মতো ভাসানচরের শরণার্থীরাও সুযোগ–সুবিধা পাবে। কক্সবাজার থেকে এক লাখ রোহিঙ্গাকে ভাসানচরে স্থানান্তর করা হবে।

গত ২৯ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে আটটায় লম্বাশিয়া আশ্রয়শিবিরে বন্দুকধারীদের গুলিতে নিহত হন মুহিবুল্লাহ (৪৮)। পরের দিন ৩০ সেপ্টেম্বর রাতে উখিয়া থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন মুহিবুল্লাহর ছোট ভাই হাবিবুল্লাহ। এরপর হামলাকারীদের ধরতে অভিযানে নামে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ৩ অক্টোর পর্যন্ত শিবিরের বিভিন্ন আস্তানায় অভিযান চালিয়ে মুহিবুল্লাহ হত্যার ঘটনায় জড়িত পাঁচজন রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এরপর দুই দফায় পাঁচজন রোহিঙ্গাকে তিন দিন করে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে উখিয়া থানার পুলিশ।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন