default-image

কোভিডের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে টাকার কোনো সমস্যা হবে না বলে মন্তব্য করেছেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। তিনি বলেছেন, ‘টাকাপয়সার ঘাটতি আছে, তবে সেটা কোনো সমস্যা নয়। হাত পাতলেই টাকা পাওয়া যাবে। আমরা ভালো পার্টি। যারা ঋণ দেয়, তারা টাকা নিয়ে বসে আছে। বিশ্ব ব্যাংক বলেন আর অন্য কেউ বলেন, সবাই টাকা দেবে।’

আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে করোনা পরিস্থিতিতে সুনামগঞ্জের সাংবাদিকদের দেওয়া প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহায়তার চেক প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। শহরের সার্কিট হাউস মিলনায়তনে সুনামগঞ্জ প্রেসক্লাব এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এতে জেলার ২৯ জন সাংবাদিককে ২ লাখ ৯০ হাজার টাকার চেক দেওয়া হয়। সুনামগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি পঙ্কজ দের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এ কে এম মহিম।

বিজ্ঞাপন

অনুষ্ঠানে পরিকল্পনামন্ত্রী আরও বলেন, ‘কাউকে বাদ দিয়ে নয়, সবাইকে নিয়েই এগিয়ে যেতে চান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এই করোনাকালে বিপাকে পড়া সব শ্রেণি ও পেশার মানুষদের খুঁজে খুঁজে তাঁদের পাশে দাঁড়াচ্ছেন তিনি। বঙ্গবন্ধু আমাদের স্বাধীন দেশ দিয়ে গেছেন। আর তাঁর কন্যা শেখ হাসিনা দেশের মানুষকে দিচ্ছেন অর্থনৈতিক মুক্তি।’

প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার কথা উল্লেখ করে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, ‘তাঁর (প্রধানমন্ত্রী) কথা পরিষ্কার। অহেতুক অপচয়, বাড়াবাড়ি, ফুটানি ও ফ্যাশন বন্ধ করতে হবে। প্রকল্প পাস হলে ইচ্ছেমতো ব্যয় করবেন, সেটা হবে না। প্রতিটি টাকা সঠিকভাবে সঠিক জায়গায় ব্যয় করতে হবে। মাঠে গিয়ে প্রতিটি কাজের, প্রতিটি টাকার হিসাব নেওয়া হবে। তবে উন্নয়নে যাতে গতি না কমে, সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে।’

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন সুনামগঞ্জ-২ আসনের (দিরাই-শাল্লা) সাংসদ জয়া সেনগুপ্তা, সুনামগঞ্জ-১ আসনের (তাহিরপুর-জামালগঞ্জ-ধরমপাশা) সাংসদ মোয়াজ্জেম হোসেন রতন, সুনামগঞ্জ-সিলেট সংরক্ষিত নারী আসনের সাংসদ শামীমা শাহরিয়ার, সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আবদুল আহাদ, সুনামগঞ্জ জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি নুরুল হুদা মুকুট, সুনামগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এনামুল কবির ইমন ও সুনামগঞ্জ পৌরসভার মেয়র নাদের বখত।

প্রধানমন্ত্রী হাওর এলাকার প্রতি অত্যন্ত আন্তরিক উল্লেখ করে সুনামগঞ্জ-৩ (জগন্নাথপুর-দক্ষিণ সুনামগঞ্জ) আসনের সাংসদ ও পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, ‘হাওর এলাকা একসময় অন্ধকারে ছিল, আড়ালে লুকানো ছিল। শেখ হাসিনা উন্নয়নের মাধ্যমে আলোয় নিয়ে এসেছেন। হাওর এলাকার মানুষের উন্নত যোগাযোগের জন্য ফ্লাইওভার হবে। এটি প্রধানমন্ত্রীর চিন্তার ফল। এ জন্য প্রকল্প প্রস্তুত হচ্ছে। আমরা এটির নাম দিতে চাই “শেখ হাসিনা ফ্লাইওভার”। এটি হলে হাওর এলাকার আর্থসামাজিক চিত্র পাল্টে যাবে।’

বিজ্ঞাপন

সুনামগঞ্জে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার আইন আগামী সোমবার সংসদে উত্থাপিত হবে জানিয়ে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, ‘এটি সংসদে উঠবে এবং পাসও হবে। কারণ, ঢেউ আমাদের পক্ষে। প্রধানমন্ত্রী হাওর এলাকার মানুষের খোঁজ রাখেন, তাঁদের কষ্ট বোঝেন। তিনি হাওর-জনপদের মানুষের মুখে সব সময় হাসি দেখতে চান।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন