বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘রাষ্ট্রযন্ত্র ব্যবহার করে আগের রাতে নির্বাচন করে তারা ক্ষমতা দখল করে আছে। এর মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে ১৯৭৫ সালে একদলীয় শাসনব্যবস্থা বাকশাল প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিল, সেটাতে ব্যর্থ হওয়ায় পরে, বিশেষ করে ২০০৮ সালের পর থেকে, সুপরিকল্পিতভাবে গণতন্ত্রকে নির্বাসিত করে ধীরে ধীরে একটা একদলীয় শাসনব্যবস্থা প্রবর্তন করতে সচেষ্ট হয়েছে। তারই ফলে দেখেছি ২০১৪ সালে নির্বাচন করেছে, যেখানে ১৫৪ জন এমপিকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত করেছিল। ২০১৮ সালে প্রতিশ্রুতি দিয়েও নিরপেক্ষ নির্বাচন ঘোষণা করেনি। যে নির্বাচন কমিশন গঠন করেছিল, তা ছিল সরকারের বশে। তাদের মাধ্যমেই আগের রাতে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে নির্বাচনের ফলাফল তাদের পক্ষে নিয়ে চলে যায়।’

কতিপয় গণমাধ্যম ও সংবাদকর্মীর সমালোচনা করে মির্জা ফখরুল বলেন, সরকার গণতন্ত্রের মুখোশ পরে মানুষের অধিকার কেড়ে নিয়েছে। এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে দুর্ভাগ্যজনকভাবে মিডিয়ারও কিছু বন্ধুবান্ধব জড়িত হয়েছেন। হয়তোবা কিছুটা চাপের মধ্যে পড়ে অথবা ব্যক্তিগত কিছু সুবিধা নেওয়ার জন্য। তিনি আরও বলেন, সিভিল সোসাইটির কিছু মানুষ না জেনে বা জেনে এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়ে পড়েছেন। আজকের সংকট কিন্তু বিএনপির সংকট নয়; এই সংকট সারা দেশের, সারা জাতির সংকট।

মির্জা ফখরুল বলেন, গণতন্ত্রের যে মৌলিক উপাদান, যার একটি জবাবদিহি থাকতে হবে, বহুদলীয় থাকতে হবে—এগুলো ধ্বংস হয়ে গেছে। এখানে এখন এক ব্যক্তির পূজা হয়। এক ব্যক্তির ছবি দেখানো হয়। এ দেশে যেন আর কারও অবদান নেই। তারই ফলে দেখা যায় স্বাধীনতার ঘোষক জিয়াউর রহমানকে বিষোদ্‌গার করা হয়। তাঁর নামে কটু কথা বলা হয়। এসব নিয়ে কথা বলতে আর রুচি হয় না।

সরকারের পদত্যাগ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনে বাধ্য করতে বিএনপির পরিকল্পনা কী—এমন প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে কথা বলছি এবং একটা জায়গায় আসার চেষ্টা করছি, যাতে ন্যূনতম কর্মসূচির ভিত্তিতে আমরা গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের বিষয়ে একমত হয়ে একটা আন্দোলন গড়ে তুলতে পারি। এই আন্দোলনের মধ্য দিয়ে জনগণের দাবি মেনে নিতে আওয়ামী লীগ সরকারকে বাধ্য করতে পারি।’

জামায়াতের রাজনীতির অধিকার আছে—মির্জা ফখরুলের এমন বক্তব্যের সমালোচনা করেছেন সাবেক মন্ত্রী কামরুল ইসলাম। এ সম্পর্কে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘কামরুল সাহেবরাই স্বাধীনতাবিরোধীদের নিয়ে চলেছেন। তাঁরা তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবির আন্দোলন একসঙ্গে করেছেন। পরে তাঁরা বিভিন্ন বিষয়ে সম্পর্ক রেখেছেন। আর আমরা তো নিজেদের কর্মসূচি নিয়েই চলছি।’

জেলা বিএনপির সভাপতি তৈমুর রহমানের সভাপতিত্বে বর্ধিত সভায় সাধারণ সম্পাদক মির্জা ফয়সল আমিন, সহসভাপতি ওবায়দুল্লাহ মাসুদ প্রমুখ বক্তব্য দেন।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন