বিজ্ঞাপন

আজ শুক্রবার সকাল সাড়ে আটটার সময় কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার একমাত্র প্রবালদ্বীপ সেন্ট মার্টিনে ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ১০০ পরিবারের মধ্যে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। খাদ্যসামগ্রী বিতরণের সময় উপস্থিত ছিলেন সেন্ট মার্টিন বিএন ইসলামিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রধান শিক্ষক শাহজালাল সরকার, সেন্ট মার্টিন ইউপির সদস্য হাবিবুর রহমান খান, সেন্ট মার্টিন সার্ভিস বোট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আলম, সাংবাদিক নূর মোহাম্মদ প্রমুখ।

দ্বীপের মাঝেরপাড়ার ৬৫ বছর বয়স্ক হোসেন বানু খাদ্যসামগ্রী নিতে এসে বললেন, স্বামী মারা যাওয়ার পর তিন ছেলেমেয়ে আলাদা আলাদা সংসার করছিলেন। ছেলেরা মাঝেমধ্যে কিছু দিলে তিনি খেতেন। অথচ ঘূর্ণিঝড় যাওয়ার পর থেকে তিনি ছেলেদের কাছ থেকে কিছুই পাননি। আজ খাদ্যসামগ্রী পেয়েছেন। এসব দিয়ে কিছুদিন ভালোভাবে পেট ভরে খেতে পারবেন। তিনি প্রথম আলোর জন্য দোয়া করেন।

default-image

দ্বীপের গলাচিপার বাসিন্দা ও জেলে নবী হোসেন বলেন, ৬৫ দিন সাগরে মাছ ধরা বন্ধ। এ উপলক্ষে সরকারের চাল দেওয়ার কথা থাকলেও ২৩ দিন অতিবাহিত হলেও এখনো পর্যন্ত পাননি। এর মধ্যে ঘূর্ণিঝড় ইয়াস ঘরবাড়ি লন্ডভন্ড করে দিয়েছেন। বাবা-মা, স্ত্রী ও ছেলেমেয়েসহ সাত সদস্যের পরিবার। দুই বেলা খাবার জোগান দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। এমন সময় প্রথম আলো ট্রাস্ট এগিয়ে আসে। তিনি বলেন, ‘এমন দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন, যা ভাষায় প্রকাশ করতে পারছি না।’

সেন্ট মার্টিন সার্ভিস বোট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আলম বলেন, প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অপরূপ লীলাভূমি সেন্ট মার্টিন। দেশের একমাত্র প্রবালদ্বীপটিকে বঙ্গোপসাগরের কবল থেকে রক্ষার জন্য বেড়িবাঁধ চান তিনি।

সেন্ট মার্টিন বিএন ইসলামিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রধান শিক্ষক শাহ জালাল সরকার বলেন, প্রথম আলো সব সময় প্রথম। এ দ্বীপের ইতিহাসে সর্বপ্রথম চলতি বছর এ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া একমাত্র শিক্ষার্থী মোহাম্মদ ইসমাইলকে প্রথম আলো ট্রাস্টের বৃত্তির জন্য অনুমোদন দিয়েছে। এর মধ্যে ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মধ্যে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করে আরও একটি নজির স্থাপন করেছেন।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন