আবু জাহেরের বাড়ি নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার হাজীপুর গ্রামে। ১৩ এপ্রিল বিকেলে চার বছরের শিশু তাসপিয়া আক্তার ওরফে জান্নাতকে চিপস-জুস কিনে দিতে বাড়ির পাশের একটি দোকানে যান তিনি। ওই সময় পূর্ববিরোধের জের ধরে স্থানীয় মো. রিমন (২৩) কয়েকজন সহযোগী নিয়ে সেখানে হামলা চালান। জাহের তাঁর মেয়েকে কোলে নিয়ে পালানোর চেষ্টা করলে গুলি করেন রিমন। শিশু তাসপিয়ার মাথা ও মুখমণ্ডলে গুলিবিদ্ধ হয়। আবু জাহেরের চোখসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুলি লাগে। গুরুতর আহত অবস্থায় ঢাকায় নেওয়ার পথে তাসপিয়ার মৃত্যু হয়।

গত বৃহস্পতিবার হাজীপুর গ্রামে নিজ বাড়িতে কথা হয় আবু জাহেরের সঙ্গে। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, তাসপিয়া তাঁর মায়ের গর্ভে থাকাকালে তিনি দ্বিতীয়বার বিদেশে কাজ করতে যান। জন্মের পর ভিডিও কলে মেয়েকে দেখেছেন, কথা বলেছেন। মেয়ে প্রায়ই তাঁকে দেশে আসতে বলত। মেয়ের ডাকে গত ৩০ জানুয়ারি দেশে ফেরেন।

আবু জাহের বলেন, ‘মা, স্ত্রী ও স্বজনেরা আমাকে আনতে বিমানবন্দরে গিয়েছিল। স্ত্রীর সঙ্গে গিয়েছিল শিশু তাসপিয়াও। বিমানবন্দরে দূর থেকে দেখেই আমাকে চিনে ফেলে সে। আব্বু বলে লাফ দিয়ে কোলে উঠে আমাকে জড়িয়ে ধরে। আর সেই মেয়ে আজ আমার বুক খালি করে চলে গেল! তাও আমার বুকে থাকা অবস্থায়। এর চেয়ে কষ্টের, দুঃখের আর কী হতে পারে?’

শিশু তাসপিয়াকে হত্যার ঘটনায় তার খালু হুমায়ুন কবির বাদী হয়ে ঘটনার দিন বিকেলে বেগমগঞ্জ থানায় মো. রিমনসহ ১৭ জনের নামোল্লেখ করে একটি হত্যা মামলা করেন। এ পর্যন্ত প্রধান আসামি রিমন ওরফে মামুন উদ্দিনসহ ১৩ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন