শিক্ষক স্বামীর মুক্তির দাবিতে সামনে থেকে লড়াই করেছেন তাঁর স্ত্রী ববিতা হালদার। কয়েক দিন ধরেই গণমাধ্যমে তিনি বলে এসেছেন, তাঁর স্বামী নির্দোষ। ধর্ম অবমাননা হয়, এমন কোনো কথাই তিনি বলেননি। পরিকল্পিতভাবে ঘটনা সাজিয়ে হৃদয় মণ্ডলকে গ্রেপ্তারের পর সামাজিকভাবে তাঁদের পরিবারকে চাপে ফেলা হয়েছে।

মায়ের সঙ্গে আদালতে এসেছিল হৃদয়-ববিতা দম্পতির দুই সন্তান শ্রেষ্ঠ মণ্ডল ও সৃষ্টি মণ্ডল। শ্রেষ্ঠ তার বাবার বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র। বাবার জামিনে খুশি শ্রেষ্ঠ প্রথম আলোকে বলেছে, ‘আমরা আবার বাবাকে কাছে পাব। খুব ভালো লাগছে। আমি আবার স্কুলে ফিরতে চাই। আমাকে দেখে সবাই আসামির ছেলে বলে তিরস্কার করত। আমি চাই, আমাকে যেন কেউ তিরস্কার না করে। আমরা যেন বাড়ির বাইরে নিরাপদে যেতে পারি। প্রশাসন যেন আমাদের জন্য সেই ব্যবস্থা করে দেয়।’

এর আগে গত ২৩ ও ২৮ মার্চ আদালতে হৃদয় মণ্ডলের জামিন চাওয়া হয়েছিল। সে সময় আদালত তাঁর জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন। ইসলাম ধর্ম অবমাননার অভিযোগে হৃদয় চন্দ্র মণ্ডলের বিরুদ্ধে গত ২২ মার্চ বিদ্যালয়ের অফিস সহকারী মো. আসাদ বাদী হয়ে মামলাটি করেন। ওই দিনই তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

হৃদয় মণ্ডলের গ্রেপ্তারের ঘটনার বিষয়ে বিনোদপুর রাম কুমার উচ্চবিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক প্রথম আলোকে জানান, ২০ মার্চ দশম শ্রেণির মানবিক শাখার বিজ্ঞানের ক্লাস নিচ্ছিলেন হৃদয় চন্দ্র মণ্ডল। সেখানে বিজ্ঞান ও ধর্ম বিষয়ে তাঁর সঙ্গে শিক্ষার্থীদের কয়েকজনের পক্ষে-বিপক্ষে কথোপকথন হয়। কোনো এক শিক্ষার্থী ওই কথোপকথনের ভিডিও ধারণ করে। পরবর্তী সময়ে প্রধান শিক্ষক মো. আলাউদ্দীনকে বিষয়টি জানানো হয়। প্রধান শিক্ষক সেদিনই হৃদয় চন্দ্রকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেন এবং শিক্ষার্থীদের শান্ত থাকতে বলেন। তবে শিক্ষার্থীরা স্থানীয় কয়েকজন ও প্রাক্তণ শিক্ষার্থীদের বিষয়টি জানায়। এর পরদিন সকালে তাঁরা বিদ্যালয়ে এসে ওই শিক্ষককে গ্রেপ্তারের দাবিতে স্লোগান দিতে থাকেন। পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

বিদ্যালয়টির ওই শিক্ষক বলেন, ‘আমিও এই বিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলাম। অনেক আগে থেকেই হৃদয় স্যারকে ব্যক্তিগতভাবে চিনি। তাঁর মধ্যে ধর্মীয় বিশ্বাসের সঙ্গে সব ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধা ছিল। ধর্মান্ধতার বিষয়টি কখনো দেখিনি। তিনি কখনো কোনো ধর্মকে ছোট করে কথা বলতেন না। ধর্মীয় রীতিনীতি কারও ওপর চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করতেন না।’ তাঁর সঙ্গে অন্যায় করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।