default-image

‘আম্পানে আমাগো সব শেষ কুরে দে। ছ্যালে মেয়ে নে চলতে পারতি নে। এলাকায় কোনো কাজকাম নি। অন্য কোনো দিক যে যাব, তাও কুরুনার জন্যি যাতি পাত্তিনে। কেউ কোনো সহায়তা দ্যায়নি। এ সময় তোমাগো এসব চাল, ডাল উপকার হবেনে। কদিন আমার খাবার চিন্তা কুরতে হবি না।’

সাতক্ষীরার শ্যামনগরে প্রথম আলো ট্রাস্টের পক্ষ থেকে ঘূর্ণিঝড় আম্পানে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের মধ্যে গতকাল শনিবার দুপুরেও খাদ্যসহায়তা দেওয়া হয়। এই সহায়তা পাওয়া ব্যক্তিদের একজন শ্যামনগরের বড় গাবুরা গ্রামের করিমুন্নেছা (৭০)। ত্রাণ পাওয়ার পর এভাবে নিজের অনুভূতি জানান তিনি। এদিন তাঁর মতোই দুস্থ ৪০০ পরিবারের সদস্যদের এই সহায়তা দেওয়া হয়। গাবুরা খোলপেটুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে এসব পরিবারের মধ্যে চাল, ডাল ও আলু সহায়তা হিসেবে দেওয়া হয়। ঝড়-বৃষ্টির মধ্যে নৌকায় করে দুর্গম জায়গায় এ ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রমে ছিলেন প্রথম আলো বন্ধুসভার সদস্যরা।

সুন্দরবনসংলগ্ন গাবুরা ইউনিয়নের মানুষ জীবিকা নির্বাহ করে মূলত চিংড়ি চাষ এবং সুন্দরবনে নদ–নদীতে মাছ ও মধু আহরণ করে। আম্পানে খোলপেটুয়া নদী ও কপোতাক্ষ নদের বেড়িবাঁধ ভেঙে তলিয়ে গেছে তাঁদের বাড়িঘর ও চিংড়ির ঘের। স্থানীয় লোকজন স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে বাঁধের কিছুটা সংস্কার করতে পারলেও ঘরবাড়ি ভেঙে যাওয়ায় অনেক পরিবার এখনো ফিরতে পারেনি বস্তুভিটায়।

সহায়তা প্রদানকালে উপস্থিত ছিলেন গাবুরা খোলপেটুয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ফারহাদ হোসেন, সাতক্ষীরা বন্ধুসভার সভাপতি জাহিদা জাহান, প্রথম আলোর সাতক্ষীরার নিজস্ব প্রতিবেদক কল্যাণ ব্যানার্জি প্রমুখ।

আম্পানে ক্ষতিগ্রস্তদের ত্রাণ দেওয়ার জন্য প্রথম আলা ট্রাস্টের ত্রাণ তহবিলে এ পর্যন্ত ছয় লাখ টাকা অনুদান পাওয়া গেছে। এর মধ্যে মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক লিমিটেড দিয়েছে ৩ লাখ টাকা এবং নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ব্যক্তি দিয়েছেন বাকি ৩ লাখ টাকা। অনুদানে প্রাপ্ত অর্থ এবং ট্রাস্টের নিজস্ব তহবিল থেকে সাত জেলায় এ পর্যন্ত দুই হাজারের বেশি পরিবারকে মোট ৮ লাখ ৯০ হাজার টাকার ত্রাণ বিতরণ করা হয়েছে।

ঘূর্ণিঝড় আম্পানে ক্ষতিগ্রস্তদের সহযোগিতায় আপনিও এগিয়ে আসতে পারেন। হিসাবের নাম: প্রথম আলো ট্রাস্ট/ত্রাণ তহবিল, হিসাব নম্বর ২০৭.২০০.১১১৯৪, ঢাকা ব্যাংক লিমিটেড, কারওয়ান বাজার শাখা, ঢাকা।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0