পুলিশ ও স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ইউছুফের পরিবার ও তাঁর চাচা নুর নবীর পরিবারের মধ্যে জমির মালিকানা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। এ নিয়ে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য আনোয়ার উল্যাহ ঈদের পর সালিসের মাধ্যমে বিরোধ মীমাংসার কথা বলেছিলেন। এ ছাড়া তাঁদের বিরোধপূর্ণ একটি জমির গাছ থেকে আম পাড়তে উভয় পক্ষকে নিষেধ করেন ওই ইউপি সদস্য।

প্রতিবেশীরা বলেন, গতকাল বিকেলে নুর নবী এবং তাঁর ছেলে সোহেল ও রুবেল বিরোধপূর্ণ জমির গাছ থেকে আম পাড়তে শুরু করেন। এ সময় ইউছুফ তাঁদের আম পাড়তে নিষেধ করেন। এ নিয়ে তাঁদের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। পরে রাত সাড়ে নয়টার দিকে ইউছুফ ও তাঁর বড় ভাই কবির স্থানীয় কুতুবের হাটবাজার থেকে বাড়ি ফিরছিলেন। বিকেলের বাগ্‌বিতণ্ডার জেরে এ সময় সোহেল ও রুবেল মিলে ইউসুফ ও তাঁর ভাইকে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করে।

ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন ইউসুফ ও কবিরকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে নোয়াখালীর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত সাড়ে ১১টার দিকে ইউছুফ মারা যান। আহত কবির একই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এদিকে ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন অভিযুক্ত সোহেল ও রুবেলকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে। পরে রাতে পুলিশ নুর নবীকেও আটক করে থানায় নিয়ে যায়।

নবীপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বেলায়েত হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ঈদের পর সালিসের মাধ্যমে ইউসুফ ও তাঁর চাচার পরিবারের মধ্যে জমি নিয়ে বিরোধের বিষয়ে মীমাংসার কথা বলা হয়েছিল। তবে এর আগেই গতকাল বিরোধপূর্ণ জমির আম গাছ থেকে আম পাড়া নিয়ে চাচাত ভাইদের সঙ্গে ইউছুফের ঝগড়া হয়। এর জের ধরে রাতে চাচাত ভাইয়েরা ইউছুফ ও তাঁর ভাই কবিরকে ছুরিকাঘাত করেছে বলে স্থানীয় লোকজনরা জানিয়েছেন।

সেনবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইকবাল হোসেন পাটোয়ারী প্রথম আলোকে বলেন, ছুরিকাঘাতের খবর পেয়ে রাতেই পুলিশ অভিযুক্ত তিনজনকে আটক করেছে। নিহত ব্যক্তির লাশ নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতাল থেকে উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ব্যাপারে নিহত মোহাম্মদ ইউছুফের পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন