default-image

সিলেটের বন্দরবাজার ফাঁড়িতে রায়হান আহমেদকে (৩৪) নির্যাতনে হত্যার ঘটনায় কর্তব্য পালনে অবহেলার অভিযোগে পুলিশের আরও দুজন কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। পুলিশের সদর দপ্তরের নির্দেশে আজ বুধবার তাঁদের বরখাস্ত করা হয়।

বরখাস্ত হওয়া দুজন হলেন কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সৌমেন মৈত্র ও উপপরিদর্শক (এসআই) মোহাম্মদ আবদুল বাতেন। রায়হান হত্যার সময় সৌমেন কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) দায়িত্বে ছিলেন। আর এসআই আবদুল বাতেন ছিলেন হত্যা মামলাটির প্রথম তদন্তকারী কর্মকর্তা (আইও)। তাঁদের নিয়ে রায়হান হত্যার ঘটনায় এ পর্যন্ত ছয়জনকে বরখাস্ত করা হলো।

বিজ্ঞাপন
দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে ওই দুজনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
বি এম আশরাফ উল্যাহ, অতিরিক্ত উপকমিশনার (গণমাধ্যম), মহানগর পুলিশ

নগর পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রায়হান হত্যার সময় কোতোয়ালি থানার ওসি মোহাম্মদ সেলিম মিঞা ছুটিতে ছিলেন। তখন ওসির দায়িত্বে ছিলেন সৌমেন মৈত্র। সৌমেন ফাঁড়িতে নির্যাতনের ঘটনাটি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাননি। আর আইও আবদুল বাতেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের অনুপস্থিতিতে লাশের সুরতহাল ও প্রথম ময়নাতদন্ত করেছেন। পুলিশ সদর দপ্তরের প্রতিনিধিরা তদন্ত করে এর সত্যতা পান। তাঁদের সুপারিশের ভিত্তিতে ওই দুজনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

জানতে চাইলে মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (গণমাধ্যম) বি এম আশরাফ উল্যাহ প্রথম আলোকে বলেন, দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে ওই দুজনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। বরখাস্তের পর সৌমেনকে রংপুর পুলিশ লাইনস ও আবদুল বাতেনকে সিলেট মহানগর পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়েছে।

গত ১০ অক্টোবর সিলেট নগরের আখালিয়া এলাকার রায়হানকে বন্দরবাজার ফাঁড়িতে নিয়ে নির্যাতন করা হয়। পরদিন তিনি মারা যান। এ ঘটনায় তাঁর স্ত্রী তাহমিনা আক্তার কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন।

গত ১০ অক্টোবর সিলেট নগরের আখালিয়া এলাকার রায়হানকে বন্দরবাজার ফাঁড়িতে নিয়ে নির্যাতন করা হয়। পরদিন তিনি মারা যান। এ ঘটনায় তাঁর স্ত্রী তাহমিনা আক্তার কোতোয়ালি থানায় হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইনে মামলা করেন।

পুলিশ জানায়, মহানগর পুলিশের একটি কমিটি তদন্ত করে আকবরকে নির্যাতনের সত্যতা পায়। এর ভিত্তিতে ১২ অক্টোবর ফাঁড়ির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ইনচার্জ) উপপরিদর্শক (এসআই) আকবর হোসেন ভূঁইয়া, ফাঁড়ির দ্বিতীয় কর্মকর্তা এসআই হাসান উদ্দিন, কনস্টেবল টিটু চন্দ্র দাস ও হারুন অর রশিদকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। এরপর মামলাটি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনে (পিবিআই) স্থানান্তর হয়। ১৩ অক্টোবর আকবর পুলিশি হেফাজত থেকে পালিয়ে যান। ২৭ দিন পর তাঁকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন