default-image

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হেফাজতের হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ এবং পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় আরও চারটি মামলা হয়েছে। এ নিয়ে জেলাটিতে হেফাজতের তাণ্ডবের ঘটনায় মোট ১১টি মামলা হলো। তবে আগেরগুলোর মতো নতুন দায়ের হওয়া চারটি মামলাতেও ‘হেফাজতের’ নাম নেই। গত মঙ্গলবার রাত থেকে বুধবার বিকেলের মধ্যে সদর ও সরাইল থানায় এসব মামলা করে পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার বেলা তিনটা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কের সদর উপজেলার বুধল ইউনিয়নের নন্দনপুর বাজার এলাকায় পুলিশ-বিজিবির সঙ্গে হেফাজতের সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে গত মঙ্গলবার রাতে ১০০-১৫০ জন ‘অজ্ঞাতনামা দুষ্কৃতকারী’কে আসামি করে সদর থানায় একটি মামলা করেছে পুলিশ। একই দিন নন্দনপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় হামলা, সংঘর্ষ, ভাঙচুর ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় বুধবার দুপুরে এসআই সোহরাব হোসেন বাদী হয়ে আরেকটি মামলা করেন। এই মামলায় ২১ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা ৪৫০ থেকে ৫০০ জনকে আসামি করা হয়।

সরাইল থানা ও খাটিহাতা হাইওয়ে থানা সূত্রে জানা গেছে, গত রোববার হেফাজতের ডাকা হরতালের সময় খাটিহাতা হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় উপপরিদর্শক (এসআই) শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন বাদী হয়ে সাতজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা ৭৫০ থেকে ৮০০ জনকে আসামি করে সদর থানায় একটি মামলা করেছেন। একই সময়ে খাটিহাতা হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির সামনের ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের উত্তর পাশের অংশে হরতাল-সমর্থকদের সঙ্গে হামলা, সংঘর্ষ ও আগুনে পোড়ানোর ঘটনায় আটজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে বুধবার দুপুরে সরাইল থানায় মামলা করেন খাটিহাতা হাইওয়ে থানার সার্জেন্ট মাইদুল ইসলাম। মামলায় আসামি করা হয়েছে তিন থেকে চার হাজার মানুষকে। খাটিহাতা হাইওয়ে থানার এক পাশ সদর থানায়, আরেক পাশ সরাইল থানা এলাকায় পড়েছে। এ কারণে দুই থানায় মামলা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

মামলার এজাহার, পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, গত রোববার হরতাল চলাকালে দুপুর পৌনে ১২টার দিকে হরতাল সমর্থক কয়েক হাজার শিশু-কিশোর-তরুণ থানায় হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে খাটিহাতা হাইওয়ে থানার সব শেষ করে দিয়েছে। এ ছাড়া থানার আশপাশে এবং ডাম্পিং এলাকায় থাকা র‌্যাকার, সাঁজোয়া যান (এপিসি) দুটি পিকআপ ভ্যান, মামলার আলামত হিসেবে জব্দ করা দুটি ব্যক্তিগত গাড়ি, ১০-১২টি মোটরসাইকেল পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

এ সময় হাইওয়ে পুলিশ সাড়ে চার শতাধিক গুলি ছোড়ে। গুলিতে নিহত হয়েছেন দুজন। তাঁরা হলেন সদর উপজেলার বুধল ইউনিয়নের খাটিহাতা গ্রামের আলতাফ আলী ওরফে আলতু মিয়ার ছেলে হাদিস মিয়া ওরফে কালন মিয়া (২৩), সরাইল উপজেলা সদরের কুট্টাপাড়া গ্রামের সুফি আলীর ছেলে আল আমীন (১২)। গুলিতে আহত পৃথম মিয়া (২৩), গেলমান মোতাইদ (১০), সাইমন মিয়া (১০), মাসুম মিয়া (২৩) আলম মিয়া (৩২) ইমন মিয়া (১৭) ও আরমান মিয়াকে (২০) উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

এসব মামলায় হেফাজতের নামই উল্লেখ করা হয়নি। শুধু শুক্রবার পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে হামলার ঘটনায় শনিবার পুলিশের দায়ের করা দুটি মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, চার থেকে পাঁচ হাজার অজ্ঞাতনামা কওমি মাদ্রাসার ছাত্র-শিক্ষক ও তাঁদের অনুসারী।

খাটিহাতা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাখাওয়াত হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ‘হাইওয়ে থানার ঘটনায় সরাইল ও সদর থানায় দুটি মামলা হয়েছে। দুই মামলায় আটজন করে ১৬ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। আমরা ভিডিওচিত্র ও স্থিরচিত্র থেকে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করছি। জড়িত সবাইকে দুই মামলায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে।’

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত রোববার হেফাজতের হরতালের সময় আশুগঞ্জ উপজেলার সৈয়দ নজরুল ইসলাম সেতুর টোল প্লাজার কাউন্টার ও পুলিশ ফাঁড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় গত মঙ্গলবার দুটি মামলা হয়। এর আগে গত শুক্রবারের হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে তিনটি, আনসার ও ভিডিপি কার্যালয়ের অ্যাডজুট্যান্ট শাহাদাৎ হোসেন বাদী হয়ে একটি ও ইউনিভার্সিটি অব ব্রাহ্মণবাড়িয়ার রেজিস্ট্রার বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন।

হেফাজতের নাম নেই

তবে এসব মামলায় হেফাজতের নামই উল্লেখ করা হয়নি। শুধু শুক্রবার পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে হামলার ঘটনায় শনিবার পুলিশের দায়ের করা দুটি মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, চার থেকে পাঁচ হাজার অজ্ঞাতনামা কওমি মাদ্রাসার ছাত্র-শিক্ষক ও তাঁদের অনুসারী। সেখানেও হেফাজতের নাম উল্লেখ করা হয়নি।

default-image

এদিকে ঘটনার পাঁচ দিন পার হলেও ২৬ মার্চ ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে স্টেশনের ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় এখনো কোনো মামলা হয়নি।

পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, এসব মামলায় এখন পর্যন্ত ২১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে তাঁদের মধ্যে হেফাজতের উল্লেখযোগ্য কেউ নেই বলে স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জ্যেষ্ঠ সহকারী পুলিশ সুপার (সরাইল সার্কেল) আনিছুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন,‘হাইওয়ে থানার ঘটনায় দুটি মামলা হয়েছে। এ ছাড়া সরাইল উপজেলার অরুয়াইল পুলিশ ক্যাম্পে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় আরেকটি মামলার প্রস্তুতি চলছে। কোনো অপরাধী যেন ছাড় না পায় এবং কোনো নিরপরাধ লোকজন যেন হয়রানির শিকার না হন, এ জন্য যাচাইবাছাই চলছে। তবে শিগগির মামলা হয়ে যাবে।’

বিজ্ঞাপন
জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন