বন্য প্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ খুলনার মৎস্য বিশেষজ্ঞ মো. মফিজুর রহমান চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, পাটাগোনিয়ান মারা সাধারণত আগস্ট থেকে জানুয়ারির মধ্যে বাচ্চা দেয়। এদের গর্ভকাল ১০০ দিনের মতো। আর্জেন্টিনায় এদের বেশির ভাগের জন্ম হয় সেপ্টেম্বর থেকে অক্টোবরের মধ্যে। জন্মের ১০ থেকে ১২ সপ্তাহ পর এরা মায়ের দুধ পান বন্ধ করে। এই শাবকের ওজন ২৮৮ গ্রাম।

সাতক্ষীরার তুষখালী সীমান্ত দিয়ে ভারতে পাচারকালে গত ৩ মার্চ সাতটি পাটাগোনিয়ান মারা উদ্ধার করে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। বন বিভাগের ধারণা, আর্জেন্টিনার প্রাণীগুলোকে বাংলাদেশের মাটি ব্যবহার করে অবৈধভাবে ভারতে পাচার করা হচ্ছিল। উদ্ধারের পর একটি প্রাণী মারা যায়। বাকি ছয়টি প্রাণীকে বিজিবি ২২ আগস্ট বন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করে।

গাজীপুরের বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কের ভেটেরিনারি সার্জন হাতেম সাজ্জাদ মোহাম্মদ জুলকারনাইন প্রথম প্রাণীটিকে শনাক্ত করেন। তিনি বলেন, সাধারণত এই প্রাণী সাড়ে ২৭ ইঞ্চি দীর্ঘ হয়। চোখ আর কানের তুলনায় লেজটা বেশ ছোট, মাত্র দেড় থেকে দুই ইঞ্চি। ওজন ৮ থেকে ১৬ কেজির মতো। এরা তৃণভোজী। সাধারণত হাঁটাহাঁটি করে চলাফেরা করলেও সুযোগ পেলেই খরগোশ বা ক্যাঙারুর মতো লাফালাফি করে। বছরে সাধারণত একবার বাচ্চা দেয় এরা।

বন বিভাগের এক কর্মকর্তা বলেন, প্রায় ১০ মাস আগে ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে প্রাণীগুলো আনা হয়। একটি বড় চালানে এগুলোসহ আরও পাটাগোনিয়ান মারা আনা হয়। এর বেশির ভাগই পাচার হয়ে গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বাদামি রঙের প্রাণীটি দেখতে অনেকটা খরগোশের মতো। চোখ দুটো হরিণের মতো। সামনের তুলনায় পেছনের পা দুটো বেশ দীর্ঘ। লাফিয়ে চলার সময় তাই দেখতে কিছুটা ক্যাঙারুর মতো লাগে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন