আজ বেলা দুইটায় দিনাজপুর সারদ্বেশ্বরী বালিকা উচ্চবিদ্যালয় মাঠে জানাজা শেষে শহরের সোনাপীর কবরস্থানে তাঁর দাফন সম্পন্ন হয়েছে।

শহরের সর্দারপাড়া এলাকার বাসিন্দা মকবুল হোসেন বীর মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। দুই ছেলেমেয়ের জনক মকবুল হোসেন একসময় রাজনীতির মাঠে সক্রিয় ছিলেন। ১৯৭২ সালে তিনি জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মনোনীত হন। পরবর্তী কাউন্সিলে তিনি সভাপতিও নির্বাচিত হয়েছিলেন।

ছাত্রজীবন থেকে বই পড়া ও সংগ্রহ করার নেশা ছিল তাঁর। জীবনের শেষ বয়সে এসে বাড়ির ছাদে গড়ে তুলেছিলেন সেঁওতি গ্রন্থাগার। তাঁর গ্রন্থাগারে আলমারিতে সাজানো আছে বিভিন্ন বিষয়ের ওপর ১০ হাজারের বেশি বই। বই সংগ্রহের পাশাপাশি কবিতাও লিখতেন তিনি। তাঁর পৃষ্ঠপোষকতায় দিনাজপুর থেকে নিয়মিত প্রকাশিত হতো ছোট কাগজ ‘সেঁওতি’।

২০১৯ সালের ২ ফেব্রুয়ারি প্রথম আলোর ৮ নম্বর পৃষ্ঠায় ‘রাজনীতির মাঠ ছেড়ে বইয়ের ভুবনে’ শিরোনামে মকবুলকে নিয়ে প্রতিবেদন ছাপা হয়। ওই বছরের ৬ ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় গ্রন্থাগার দিবসে দিনাজপুর জেলা প্রশাসন ও জেলা সরকারি গণগ্রন্থাগারের উদ্যোগে মকবুলকে সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়।

ওই সাক্ষাৎকারে মকবুল প্রথম আলোকে বলেছিলেন, ‘যত দিন বেঁচে থাকব, সেঁওতি প্রকাশ হবে। মৃত্যুর পরেও যেন সেঁওতি বন্ধ না হয়, এ জন্য সম্পাদককে অনুরোধ করেছি।’
শেষ বয়সে মকবুলের সঙ্গী ছিলেন বীরগঞ্জ ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ মাসুদুল হক। সেঁওতির প্রকাশক তিনি। মকবুলের স্মৃতিচারণা করে মাসুদুল হক বলেন, মকবুল তাঁর কাজের মধ্য দিয়ে বেঁচে থাকবেন। এই যে বিশাল বড় বইয়ের ভান্ডার গড়েছেন, এটাই তাঁকে বাঁচিয়ে রাখবে। মকবুলের প্রিয় ছোট কাগজ ‘সেঁওতি’ যেভাবে প্রকাশিত হতো, সেটি সেভাবেই প্রকাশিত হবে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন