default-image

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলায় পদ্মা আর বগুড়ার ধুনটে বাঙ্গালী নদী থেকে অবাধে বালু উত্তোলন করায় ঝুঁকিতে পড়েছে তীর রক্ষা বাঁধ, ফসলি জমি ও একটি সেতু। দুটি নদী থেকে বালু তুলছেন একটি ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যানের লোকজন ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ, যুবলীগের নেতারা।

ওই দুই এলাকার কয়েকজনের অভিযোগ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদরের চরবাগডাঙ্গা ইউনিয়নের বাখর আলী ঘাটের কাছে পদ্মা নদী থেকে বালু তোলা হচ্ছে। চরবাগডাঙ্গা ইউপির চেয়ারম্যান শহীদ রানার সহযোগীরা এই বালু উত্তোলন করছেন। আর ধুনটে বিলচাপড়ী গ্রামের একটি সেতুর কাছে খননযন্ত্র দিয়ে বালু তোলার কাজ করছেন কালেরপাড়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম এবং এলাঙ্গী ইউনিয়ন যুবলীগের সদস্য রবিউল ইসলাম, আবদুল আলিমসহ কয়েকজন নেতা। রবিউলের বাড়ি বিলচাপড়ী গ্রামে।

বালু তোলার অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত ইউপি চেয়ারম্যান শহীদ রানা বলেন, তাঁর কোনো লোকজন বালু তুলছেন না। গ্রাম্য রাজনীতির কারণে তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা হয়েছে।

গত ২৩ ফেব্রুয়ারি বাঙ্গালী নদী থেকে বালু উত্তোলনের ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ দেন বিলচাপড়ী আইডিয়াল কলেজের অধ্যক্ষ জাহাঙ্গীর আলম। এখনো এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেননি ইউএনও।

বিজ্ঞাপন

অভিযোগের বিষয়ে আওয়ামী লীগ নেতা নজরুল ইসলাম ও যুবলীগ নেতা রবিউল ইসলাম বলেন, এলাকায় প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর নির্মাণের কাজ চলছে। সেখানে চাহিদা অনুযায়ী বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। ইউএনও বিষয়টি জানেন। এ ছাড়া এতে নদীভাঙনের কোনো আশঙ্কা নেই। কলেজের অধ্যক্ষ শত্রুতা করে অভিযোগ দিয়েছেন।

তবে ইউএনও সঞ্জয় কুমার মহন্ত বলেন, সরকারি ঘর নির্মাণের জন্য বালু নেওয়ার কাজ এক সপ্তাহ আগে শেষ হয়। এরপরও যদি কেউ বালু উত্তোলন করেন, তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে গত বৃহস্পতিবার চাঁপাইনবাবগঞ্জের বাখর আলী ঘাটে গিয়ে দেখা যায়, শুকিয়ে যাওয়া পদ্মায় স্তূপ করে রাখা হয়েছে বালু। খননযন্ত্র দিয়ে এসব বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। স্থানীয় ব্যক্তিরা বলেন, এতে নদীর বাখর আলী ঘাটের আশপাশের ফসলি জমি ও তীর রক্ষা বাঁধ হুমকিতে পড়েছে। স্থানীয় ব্যক্তিরা এ বিষয়ে ইউএনওসহ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) কার্যালয়ে অভিযোগ দিয়েছেন।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন