default-image

কুষ্টিয়ার খোকসা পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে প্রার্থী হতে দুজন আওয়ামী লীগের মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন।  গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকায় দলীয় সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয় থেকে তাঁরা মনোনয়নপত্র কেনেন।
ওই দুজন হলেন মেয়র উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তারিকুল ইসলাম এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আল মাছুম মুর্শেদ। গত বুধবার দলটির মনোনয়নপত্র বিক্রি শুরু হয়। চলবে আজ শুক্রবার পর্যন্ত।
এদিকে দলীয় মনোনয়ন পেতে একক প্রার্থী হিসেবে বর্তমান মেয়র তারিকুল ইসলামের নাম দলটির কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে পাঠানো হয়েছে। গত বুধবার বিকেলে জেলা আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে এ প্রস্তাব পাঠানো হয়। এতে স্থানীয় সাংসদসহ দলের একটি পক্ষ ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে।
জানতে চাইলে কুষ্টিয়া-৪ (কুমারখালী-খোকসা) আসনের সাংসদ সেলিম আলতাফ বলেন, ‘সম্পূর্ণ অসাংগঠনিক পন্থায় জেলার দায়িত্বে থাকা দুজন স্বেচ্ছাচারিতার বহিঃপ্রকাশ করেছেন।’

বিজ্ঞাপন
default-image

আগামী ২৮ ডিসেম্বর খোকসা পৌরসভা নির্বাচনে ভোট গ্রহণ করা হবে। নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, ১ ডিসেম্বর এ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন।
খোকসা উপজেলা ও পৌর আওয়ামী লীগের সূত্র জানায়, এ পৌরসভার মেয়র পদে দলীয় মনোনয়ন দিতে প্রথমে পৌরসভা ও ওয়ার্ড কমিটির নেতা-কর্মীরা সভা করে বর্তমান মেয়র তারিকুল ইসলাম, আল মাছুম মুর্শেদ ও রহিম খানের নাম প্রস্তাব করে উপজেলা কমিটির কাছে পাঠান। এরপর উপজেলা কমিটি এই প্রস্তাব জেলা কমিটির কাছে পাঠায়। বুধবার বিকেলে জেলা কমিটি তারিকুল ইসলামের নাম প্রস্তাব করে কেন্দ্রে পাঠায়। এতে স্থানীয় সাংসদসহ একটি পক্ষের মধ্যে নেতা-কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।
ওই নেতা-কর্মীরা বলছেন, আল মাছুম মুর্শেদের বাবা আবদুল মজিদ খোকসা উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন। প্রয়াত জনপ্রিয় এই নেতার ছেলে মুর্শেদও দলমত-নির্বিশেষে সবার কাছে জনপ্রিয়। এ কারণে তাঁকে নৌকা প্রতীক দেওয়া হলে জয় নিশ্চিত। তাঁকে বাদ দিয়ে এককভাবে তারিকুলের নাম প্রস্তাব করে পাঠানোয় তাঁরা ক্ষুব্ধ।

দলীয় সূত্রে জানা যায়, খোকসায় আওয়ামী লীগের রাজনীতির দুটি ধারা চলছে। এর একটির নেতৃত্ব দেন সাংসদ সেলিম আলতাফের পক্ষের হিসেবে পরিচিত আল মাছুম মুর্শেদ। অন্যটির নেতৃত্ব দেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও খোকসা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সদর উদ্দিন খানের অনুসারী মেয়র তারিকুল ইসলাম।
জানতে চাইলে আল মাছুম মুর্শেদ বলেন, ‘আমি ঢাকায় অবস্থান করছি। আমি মানুষের জন্য রাজনীতি করি। আমার বাবাও করেছেন। কে জনপ্রিয়, সেটা দল জানে। আশা করছি, দল আমাকে নৌকা প্রতীক দেবে।’
জানতে চাইলে তারিকুল ইসলাম বলেন, ‘গত পাঁচ বছর নাগরিক সুবিধা বাড়াতে কাজ করেছি। অনেক কাজ হয়েছে। মনোনয়ন পেয়ে ফের জয়ী হলে বাকি কাজ শেষ করে নাগরিকদের জন্য একটি উন্নত পৌরসভা উপহার দেব।’
জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আজগর আলী বলেন, ‘প্রার্থী মনোনয়নে খোকসা থেকে পৌর নেতাদের রেজল্যুশন পেয়েছি। সেখান থেকে একক প্রার্থী হিসেবে তারিকুলের নাম প্রস্তাব করে কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে।’

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন