বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

এদিকে রোববার বিকেলে পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনায় আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের মধ্যকার উত্তেজনার পারদে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। শহরের টাউন হল মোড়ের আশপাশের এলাকায় সন্ধ্যার আগে কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। আতঙ্কে শহরের অধিকাংশ দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে।

দলীয় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ২০১৯ সালে অনুষ্ঠিত জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনের পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদনের দাবিতে সোমবার শহরের আবদুল মালেক উকিল সড়কের দলীয় কার্যালয়ের সামনে সমাবেশ ডাকেন নোয়াখালী-৪ আসনের সাংসদ একরামুল করিম চৌধুরীর ঘনিষ্ঠ শহর আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল ওয়াদুদ (পিন্টু)। শনিবার বিকেলে তিনি এই কর্মসূচি ঘোষণা করেন। এরপরই সাংসদের অনুসারীরা সমাবেশ সফল করতে প্রস্তুতি শুরু করেন।

অন্যদিকে পৌরসভা নির্বাচন নিয়ে একই দিন সকাল ১০টায় পৌরসভা মিলনায়তনে আলোচনা আহ্বান করেন পৌর মেয়র ও শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শহিদ উল্যাহ খান। শনিবার বিকেলে তিনি এই কর্মসূচি ঘোষণার পর তাঁর অনুসারীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জোর প্রচারণা শুরু করেন। রোববার সকাল থেকে এ আলোচনা সভা সফল করতে গোটা শহরে মেয়রের পক্ষ থেকে মাইকিং করা হয়। পাল্টাপাল্টি কর্মসূচিতে বিবদমান দুই পক্ষ কার্যত মুখোমুখি অবস্থানে দাঁড়ায়। এতে শহরজুড়ে উত্তেজনাকর পরিবেশ তৈরি হয়।

পৌর মেয়র শহিদ উল্যাহ খান দাবি করেন, তাঁর কর্মসূচির সঙ্গে সাংসদের অনুসারীদের কর্মসূচির কোনো সম্পর্ক নেই। প্রথম আলোকে তিনি বলেন, ‘পৌরসভা নির্বাচন ঘনিয়ে এসেছে, তাই আমি পৌর আওয়ামী লীগের উদ্যোগে দলীয় নেতা-কর্মীদের নিয়ে আলোচনা সভা আহ্বান করেছি। তা ছাড়া জেলা আওয়ামী লীগের কমিটি অনুমোদন, বাতিল কিংবা পুনর্গঠন—সবকিছুর এখতিয়ার দলের সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার। আমি তাঁর সিদ্ধান্তের প্রতি আস্থাশীল।’

দলীয় সূত্র জানায়, সমাবেশের পূর্বপ্রস্তুতির অংশ হিসেবে রোববার বিকেল সাড়ে চারটার দিকে সাংসদ একরামুলের অনুসারীরা দলীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলটি শহরের প্রধান সড়ক হয়ে সুধারাম থানা পর্যন্ত গিয়ে দলীয় কার্যালয়ের সামনে ফিরে আসে। এরপর বিকেল পাঁচটার দিকে একরামুলের অনুসারীদের সঙ্গে জামে মসজিদ মোড় ও জিলা স্কুলের সামনে সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শিহাব উদ্দিনের অনুসারীদের হালকা পাল্টাপাল্টি ধাওয়া হয়। এ সময় কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়।

বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে নোয়াখালী মেয়রের অনুসারীরাও পৌরসভার সামনে থেকে একটি মিছিল নিয়ে শহরের প্রধান সড়কের পুরোনো বাসস্ট্যান্ড, মোহাম্মদীয়া মোড় অতিক্রম করে টাউন হলের মোড়ে এলে পুলিশ তাঁদের থামিয়ে দেয়। তাঁরা এখানে দাঁড়িয়ে সাত-আট মিনিট বিক্ষোভ করেন। এ সময় প্রায় ১০০ গজ দূরে জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের সামনে সাংসদের অনুসারীরা বিভিন্ন স্লোগান দিচ্ছিলেন। একপর্যায়ে সাংসদের অনুসারীরা মেয়রের অনুসারীদের দিকে এগিয়ে যান। এ সময় সেখানে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।

শহর আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল ওয়াদুদ (পিন্টু) সন্ধ্যায় প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা তো কারও বিরুদ্ধে কোনো কর্মসূচি দিইনি। আমাদের কর্মসূচি ছিল কেন্দ্রে জমা দেওয়া পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদনের আবেদন জানিয়ে সমাবেশ। কিন্তু প্রতিপক্ষ শহরের পরিস্থিতি ঘোলাটে করার জন্য পাল্টা কর্মসূচি দিয়ে শহরকে অশান্ত করে তুলেছে, যা কোনোভাবেই কাম্য হতে পারে না।’

সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শিহাব উদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে সোমবার সকাল ১০টায় শহরের টাউন হল মোড়ে তিনি সমাবেশ আহ্বান করেছিলেন। বিকেল পাঁচটার দিকে সমাবেশ উপলক্ষে একটি মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা শহরের দিকে গেলে সুধারাম থানার ওসির নেতৃত্বে গুলি ছুড়ে ও ধাওয়া করে শোভাযাত্রা ছত্রভঙ্গ করে দেওয়া হয়। এ সময় কয়েকটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়। এতে তাঁর কয়েকজন কর্মী আহত হয়েছেন।

জেলা পুলিশ সুপার মো. শহীদুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, বিকেলে সাংসদ একরামুল করিম চৌধুরী ও আওয়ামী লীগ নেতা শিহাব উদ্দিনের অনুসারীদের মধ্যে গন্ডগোল বাধলে পুলিশ তাঁদের ছত্রভঙ্গ করতে শটগান থেকে ৯টি রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে। এ ছাড়া মোটরসাইকেল ভাঙচুরের অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন