আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, পঞ্চম ধাপের ইউপি নির্বাচনে বোড়াগাড়িতে চেয়ারম্যান পদে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তি বর্তমান চেয়ারম্যান উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক আমিনুল ইসলাম। তিনি দুই বছর আগে একটি উপনির্বাচনে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে যথেষ্ট দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন। জনপ্রিয়তার কারণে এবারের নির্বাচনেও তাঁর বিজয় প্রায় নিশ্চিত। এমন একজন ব্যক্তিকে বাদ দিয়ে সেখানে দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে ডোমার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান তোফায়েল আহমেদের স্ত্রী জেবুন্নেছা আখতারকে। জেবুন্নেছা আখতার এলাকার মানুষের কাছে অপরিচত এবং রাজনীতিতেও তাঁর কোনো অবদান নেই। দলের প্রার্থিতা থেকে তাঁকে প্রত্যাহার করা না হলে নৌকার নিশ্চিত পরাজয় ঘটবে।

কর্মসূচিতে বীর মুক্তিযোদ্ধা, স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংঠনের নেতা–কর্মীসহ সহস্রাধিক নারী-পুরুষ অংশ নেন।

মানববন্ধন শেষে অনুষ্ঠিত সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা নূরুল আমিন। বক্তৃতা করেন ইউপি সদস্য মোজাম্মেল হক, বোড়াগাড়ী ইউনিয়ন মৎস্যজীবী লীগের সভাপতি হরিহর বর্মণ, ইউপির ৮ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি মাহবুব উল ইসলাম, কলেজশিক্ষক ইমরান হাসান, স্কুলশিক্ষক আবদুস সালাম প্রমুখ।

মোজাম্মেল হক বলেন, কিছু নেতার ভুল সিদ্ধান্তের কারণে সব জায়গায় নৌকার পরাজয় হচ্ছে। যাচাই-বাছাই করে মনোনয়ন দেওয়া হলে এমন অবস্থা হতো না।

মাহবুব উল ইসলাম বলেন, ‘ডোমারের আওয়ামী লীগ আর সেই আওয়ামী লীগ নেই। প্রকৃত নেতা–কর্মীরা বাদ পড়েছেন দল থেকে। অনুপ্রবেশকারীরা এসে ইচ্ছেমতো দল চালাচ্ছেন। যে যাঁর স্বার্থ হাসিলে ব্যস্ত আছেন।’

সমাবেশে ব্যবসায়ী রমানাথ রায় (৪০) বলেন, ‘ইউনিয়নে যিনি দলীয় প্রতীক নৌকা পেয়েছেন, তিনি যোগ্য নন। আমরা ভোটাররা বর্তমান চেয়ারম্যান যুবলীগ নেতা আমিনুল ভাইকে বাদ দিয়ে নৌকা ভাবতে পারছি না। যিনি নৌকা পেয়েছেন, তিনি জনগণের সঙ্গে সম্পৃক্ত নন।’

বাগডোকরা গ্রামের শাহের বানু (৩৫) বলেন, ‘শুনছি, নৌকা পাইছেন উপজেলা চেয়ারম্যানের বউ। হামরা তো ওমাক চিনি না, ভোট দিমো কেমন করি? এলাকার বেশির ভাগ ভোটার যাকে চিনে-জানে, দুঃখে–সুখে পাশে থাকে, তাকেই তো ভোট দিবে। এলাকাত অচেনা একজন মানইনষি কী হঠাৎ করি চেয়ারম্যান হোবার পারে।’

এ বিষয়ে কথা বলতে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী জেবুন্নেছা আখতারের স্বামী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান তোফায়েল আহমেদের মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি ধরেননি।
উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. খায়রুল আলম বলেন, ‘আমরা বোড়াগাড়ি ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের একক প্রার্থী হিসেবে ওই ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলামের নাম পাঠিয়েছিলাম। জেবুন্নেছা আখতারের নাম পাঠাইনি। সাধারণ সম্পাদক তোফায়েল আহমেদ তাঁর স্ত্রীর নামটি আলাদাভাবে পাঠিয়েছেন বলে জেনেছি।’

এ বিষয়ে কথা বললে ইউপি চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘এলাকাবাসী আমাকে প্রার্থী হতে চাপ প্রয়োগ করছেন। এ কারণে আমি সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছি। বর্তমানে আমি ঢাকায় অবস্থান করছি।’