default-image

কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজেলা পরিষদে চেয়ারম্যান পদে উপনির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করছেন এ এফ এম তারেক। অথচ তিনি সাত বছর আগে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী ছিলেন। একাধারে তিনি কুমিল্লা-৪ (দেবীদ্বার) আসনের আওয়ামী লীগের সাংসদ রাজী মোহাম্মদ ফখরুলের চাচা ও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য এ এফ এম ফখরুল ইসলাম মুন্সীর ছোট ভাই।

২০১৪ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত দেবীদ্বার উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে এ এফ এম তারেক দোয়াত-কলম প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করে পরাজিত হন। গতকাল বুধবার উপজেলা পরিষদের উপনির্বাচনে অংশ নেওয়ার জন্য তিনি মনোনয়নপত্র জমা দেন।

জানতে চাইলে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও দেবীদ্বার উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. আলতাফ হোসেন বলেন, ২০১৯ সালে দেবীদ্বার উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান হন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জয়নুল আবেদীন। গত ৩ ডিসেম্বর তিনি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। শূন্য ওই পদে ২৮ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন হবে। এতে অংশ নেওয়ার জন্য মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন ছয়জন। তাঁরা হলেন আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, বিএনপির মনোনীত প্রার্থী এ এফ এম তারেক, জাতীয় পার্টির মনোনীত প্রার্থী মো. আবদুল আউয়াল সরকার, জাকের পার্টির মুজিবুর রহমান, স্বতন্ত্র প্রার্থী পৌর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আবদুল হক ও উপজেলা শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. কাউছার হায়দার।

বিজ্ঞাপন

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১৪ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি দেবীদ্বার উপজেলা পরিষদ নির্বাচন হয়। ওই নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে ওই বছরের ২৭ জানুয়ারি দলীয় সমর্থন পেয়েছিলেন দেবীদ্বার উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এ কে এম সফিকুল আলম। পরদিন কুমিল্লার একটি রেস্তোরাঁয় এ এফ এম তারেককে পাল্টা দলীয় প্রার্থী ঘোষণা করেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য এ এফ এম ফখরুল ইসলাম মুন্সী। নির্বাচনে তারেক দোয়াত-কলম প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করেন। ওই নির্বাচনে তারেক পরাজিত হন। আওয়ামী লীগের প্রার্থী আনারস প্রতীকের এ কে এম সফিকুল আলমও পরাজিত হন।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এ কে এম সফিকুল আলম বলেন, ‘২০১৪ সালে আওয়ামী লীগ আমাকে চেয়ারম্যান পদে দল থেকে সমর্থন দেয়। তখন দলীয় প্রতীক ও মনোনয়ন ছিল না। দলীয় সমর্থন ছিল। আমি তখন বলেছিলাম, এ এফ এম তারেক হংকং শাখা বিএনপির সভাপতি। আওয়ামী লীগের সঙ্গে তাঁর কোনো সম্পৃক্ততা নেই। দলের হাইকমান্ড আমার কথায় কর্ণপাত করেনি। এরপরও তাঁকে দাঁড় করিয়ে আমাকে হারানো হয়। এখন প্রমাণিত হলো তারেক বিএনপির রাজনীতি করেন। তিনি এখন বিএনপির প্রার্থী।’

আওয়ামী লীগ নেতা এ কে এম সফিকুল আলমের অভিযোগ প্রসঙ্গে এ এফ এম তারেক বলেন, ‘২০১৪ সালে আমার ভাই ফখরুল মুন্সী আমাকে উপজেলা পরিষদে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনে সমর্থন দেন। দেবীদ্বারে আওয়ামী লীগে আমার কোনো পদে নেই। তবে আমাদের পরিবার আওয়ামী লীগের রাজনীতি করছে। আমি এখন বিএনপির উপজেলা কমিটির সহসভাপতি। তাই বিএনপি থেকে নির্বাচন করছি।’

বিজ্ঞাপন
জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন