বিজ্ঞাপন

স্থানীয় লোকজন বলছেন, মনোনয়নপ্রত্যাশীদের বেশির ভাগই এলাকায় কোনো সাংগঠনিক কর্মযজ্ঞে ছিলেন না। আবদুল মতিন খসরুর মৃত্যুর পর ও নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পর কেউ কেউ মাঠে এসেছেন। আবার দলীয় মনোনয়ন ফরম নিয়েছেন, কিন্তু এক দিনের জন্যও এলাকায় যাননি এমন মনোনয়নপ্রত্যাশীও রয়েছেন।

গত ১৪ এপ্রিল বিকেলে রাজধানীর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান আবদুল মতিন খসরু। এরপর থেকে দলীয় মনোনয়ন পেতে নির্বাচনী এলাকায় গণসংযোগ, প্রচারণা, দান–খয়রাত, মোটরসাইকেল ও গাড়ির মহড়া, পোস্টার সাঁটানো, বিলবোর্ড স্থাপন, ত্রাণ–খিচুড়ি বিতরণসহ নানা কর্মযজ্ঞে ঝাঁপিয়ে পড়েন মনোনয়নপ্রত্যাশীরা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মনোনয়নপ্রত্যাশীদের প্রচারণা চোখে পড়েছে। এ অবস্থায় আজ শনিবার দলীয় প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হবে। কার ভাগ্যে আছে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন, তা নিয়ে চলছে তুমুল আলোচনা।

কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ সূত্রে জানা গেছে, ৪ জুন থেকে ৯ জুন পর্যন্ত ৩৫ জন দলীয় নেতা, কর্মী ও সমর্থকের পক্ষে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করা হয়। এর মধ্যে ৪ জুন মনোনয়ন ফরম কেনেন কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন, বুড়িচং উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য মো. আবু ছালেক (সেলিম রেজা সৌরভ), আবদুল মতিন খসরুর সহধর্মিণী সেলিমা সোবহান খসরু, আবদুল মতিন খসরুর ছোট ভাই কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি আবদুল মমিন ফেরদৌস, ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জাহাঙ্গীর খান চৌধুরী, কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা হেলেনা জাহাঙ্গীর, বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের পরিচালক এস এম জাহাঙ্গীর আলম, সেক্টর কমান্ডার্স ফোরাম ঢাকা বিভাগের আইনবিষয়ক সম্পাদক (ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রাথমিক সদস্য) সোহরাব খান চৌধুরী।

৫ জুন মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা উপকমিটির সদস্য আনিসুর রহমান, বুড়িচং উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল হাসেম খান, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ উপকমিটির সদস্য মো. শাহজালাল, ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. আবদুল বারী, একই কমিটির আইনবিষয়ক সম্পাদক শাহিদা বেগম, সদস্য ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এম এ জাহের, ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দিদার মো. নিজামুল ইসলাম, কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আল আমীন, বুড়িচং উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য আবদুল মতিন, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা জাহাঙ্গীর আলম সরকার, পেশাজীবী সমন্বয় পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক মোহাম্মদ আলী চৌধুরী মানিক, স্বেচ্ছাসেবক লীগের সদস্য জাহেদুল আলম।

৬ জুন মনোনয়ন ফরম নিয়েছেন বুড়িচং উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা চেয়ারম্যান আখলাক হায়দার, একই কমিটির সহসভাপতি মো. আল আমিন, স্বাধীনতা চিকিত্সক পরিষদ (স্বাচিপ) নেতা নওশের আলম, ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য জিয়াউল হাসান মাহমুদ, আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য মাহতাব হোসেন, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা মোস্তফা কামাল।

৭ জুন মনোনয়ন ফরম নিয়েছেন কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য আবদুছ ছালাম বেগ, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের সাবেক সহসাহিত্য সম্পাদক মোহাম্মদ ফারুক আহাম্মদ, বুড়িচং উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. রেজাউল করীম। ৮ জুন মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেন যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সহসম্পাদক এহতেশামুল হাসান ভূঁইয়া, বুড়িচং উপজেলা যুব মহিলা লীগের সাধারণ সম্পাদক জান্নাতুল ফেরদৌস, ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মো. আবদুল জলিল, কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক দপ্তর সম্পাদক মোহাম্মদ তরিকত উল্লাহ।
৯ জুন ফরম নিয়েছেন আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ উপকমিটির সদস্য মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন ও বুড়িচং উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য এম এ জলিল ভূঁইয়া।

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কাজী জাফর উল্লাহ শুক্রবার বিকেলে মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, কাল (আজ শনিবার) মনোনয়ন বোর্ডের সভা হবে। সভার পর দলীয় প্রার্থী ঘোষণা করা হবে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন