বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

চাল আত্মসাৎ মামলার আসামিদের মনোনয়নের বিষয়ে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক সাংসদ আবুল কালাম আজাদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘দলীয় প্রার্থী মনোনয়ন বোর্ড এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তারা তো এখনো দোষী সাব্যস্ত হননি।’

দুদকের করা মামলার নথি ঘেঁটে দেখা যায়, ২০১৭ সালের জুনে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর ধর্মীয় সভায় আসা ব্যক্তিদের খাওয়া বাবদ চাল বরাদ্দ দেয়। আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে ধর্মীয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে দেখিয়ে জাল কাগজপত্রের মাধ্যমে চাল আত্মসাৎ করেন।

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলায় ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ২ হাজার ২৫৩টি ধর্মীয় সভার নামে ৫ হাজার ৮২৩ মেট্রিক টন চাল আত্মসাতের অভিযোগ ওঠে। এই পরিমাণ চালের বাজারদর ২২ কোটি ৩ লাখ ২১ হাজার ৫৯০ টাকা। জাল কাগজপত্র তৈরি করে চাল আত্মসাতের অভিযোগে চলতি বছরের ২৬ আগস্ট মামলা করে দুদক। এ মামলায় গোবিন্দগঞ্জের ১৭ জন ইউপি চেয়ারম্যানসহ ১৯ জনকে আসামি করা হয়। তাঁদের মধ্যে পাঁচজন এবারও চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেলেন।

দরবস্তে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাওয়া শরিফুল ইসলাম মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে মামলা হতে পারে। কিন্তু অপরাধ তো প্রমাণিত হয়নি। মামলার প্রভাব নির্বাচনে পড়বে না।’

আরেক প্রার্থী শিবপুরের চেয়ারম্যান সেকেন্দার আলী মণ্ডল দাবি করেন, চাল আত্মসাতের বিষয়ে তাঁর কিছুই জানা ছিল না। হঠাৎ শোনেন মামলা হয়েছে। এই মামলা নির্বাচনে প্রভাব ফেলতেও পারে বলে মনে করেন তিনি।

দুদকের করা মামলায় আসামিরা গত সেপ্টেম্বর মাসে উচ্চ আদালত থেকে জামিন নেন। গাইবান্ধা আদালতে দুদকের আইনজীবী আবু আলা মোহাম্মদ সিদ্দিকুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, আসামিদের জামিনের শেষ দিন ছিল গতকাল ২১ নভেম্বর। উচ্চ আদালতের আদেশে বলা ছিল, এই সময়ের মধ্যে নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণ করতে হবে। গতকাল পর্যন্ত কেউ আদালতে আসেননি।

দুদকের করা মামলার নথি ঘেঁটে দেখা যায়, ২০১৭ সালের জুনে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর ধর্মীয় সভায় আসা ব্যক্তিদের খাওয়া বাবদ চাল বরাদ্দ দেয়। আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে ধর্মীয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে দেখিয়ে জাল কাগজপত্রের মাধ্যমে চাল আত্মসাৎ করেন।

মামলার বাদী দুদক রংপুর সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. হোসাইন শরীফ প্রথম আলোকে বলেন, দুদকের অনুসন্ধানে চাল আত্মসাতের সত্যতা পাওয়া গেছে। তাই প্রধান কার্যালয়ের নির্দেশে মামলাটি করা হয়। এ মামলার তদন্ত চলছে।

দুদকের করা এই মামলায় অপরাধ প্রমাণিত হলে আসামিদের সর্বোচ্চ সাজা হবে সাত বছরের কারাদণ্ড বা জরিমানা বা উভয় দণ্ড।

এবার প্রতিটি ধাপের ইউপি নির্বাচনেই আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে দলের বিভিন্ন পর্যায় নানা সমালোচনা হচ্ছে। ১১ নভেম্বর অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় ধাপের নির্বাচনে ৮৩৩টি ইউপির মধ্যে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা জয় পান ৫৯ শতাংশ ইউপিতে। স্বজনপ্রীতি, মনোনয়ন-বাণিজ্যের কারণে দলীয় প্রার্থী ভালো না হওয়ায় আওয়ামী লীগের ফল খারাপ হচ্ছে—তৃণমূলে এমন আলোচনা হচ্ছে।

সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার প্রথম আলোকে বলেন, ২০১৬ সাল থেকে দলীয় প্রতীকে ইউপি নির্বাচন শুরু হওয়ার পর দেখা যাচ্ছে প্রার্থীদের মান কমে যাচ্ছে। এবার আরও ভয়াবহ পরিস্থিতি। মনোনয়ন-বাণিজ্য, প্রভাব-প্রতিপত্তির কারণে প্রার্থী নির্বাচনে যা খুশি তা-ই হচ্ছে। রাজনৈতিক দলগুলোতে নীতি-আদর্শের অভাবেরই প্রতিফলন হচ্ছে এসব মনোনয়ন।

(প্রতিবেদনে সহায়তা করেছেন শাহাবুল শাহীন, গাইবান্ধা)

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন