বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

সিংড়া থানা ও আয়োজকদের সূত্রে জানা যায়, গতকাল নাটোরের সিংড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় সিংড়া উপজেলা কোর্ট মাঠে। দিন শেষে এ উপলক্ষে একই মাঠে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সেখানে কণ্ঠশিল্পী ও সাংসদ মমতাজ বেগমসহ স্থানীয় শিল্পীরা গান পরিবেশন করেন। সঙ্গে ছিল নৃত্যশিল্পীদের পরিবেশনা। অনুষ্ঠান দেখতে আসা নানা বয়সের প্রায় ১০ হাজার নারী-পুরুষ নাচ-গানে বুঁদ হয়ে ছিলেন। উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ, জেলা প্রশাসক শামীম আহমেদ, পুলিশ সুপার লিটন কুমার সাহাসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

অনুষ্ঠান দেখতে আসা নানা বয়সের প্রায় ১০ হাজার নারী-পুরুষ নাচ-গানে বুঁদ হয়ে ছিলেন। অনুষ্ঠান শেষে বাড়িতে ফেরার সময় অনেকে পকেটে হাত দিয়ে দেখেন মুঠোফোন নেই, নগদ টাকা নেই। অনেকের সঙ্গে নিয়ে আসা রিকশা–ভ্যানও নেই।

অনুষ্ঠান শেষে জনসাধারণ বাড়িতে ফেরার সময় অনেকে পকেটে হাত দিয়ে দেখেন মুঠোফোন নেই, নগদ টাকা নেই। অনেকের সঙ্গে নিয়ে আসা রিকশা–ভ্যানও নেই। গভীর রাতে অনেকে কোর্ট মাঠে গিয়ে তাঁদের হারানো জিনিস খুঁজতে শুরু করেন। আজ সকালেও অনেককে মাঠে হারানো জিনিস খুঁজতে দেখা যায়। অনুষ্ঠান দেখতে আসা একজন চিকিৎসক মাইকিং করে তাঁর মানিব্যাগের সন্ধান করতে থাকেন। তবে টাকার জন্য নয়, মানিব্যাগে থাকা প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের জন্য তিনি সারা দিন শহরে মাইকিং করিয়েছেন। তবে আজ রাত পর্যন্ত তিনি তাঁর মানিব্যাগের সন্ধান পাননি।

সন্ধ্যায় কথা হয় অনুষ্ঠান প্রাঙ্গণ থেকে হারিয়ে যাওয়া রিকশা–ভ্যানের মালিক নূর-নবীর সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘আমার রোজগারের একমাত্র সম্বল রিকশা–ভ্যানটি হারিয়ে গেছে। থানায় জিডি করেছি।’ স্মার্টফোন হারিয়ে আজ বিকেলে থানায় জিডি করতে আসেন সিংড়া পৌর শহরের সরকারপাড়ার বাসিন্দা ও মৎস্য ব্যবসায়ী শহিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, রাতে অনুষ্ঠান দেখতে গিয়ে মুঠোফোনটি হারিয়ে গেছে। মুঠোফোনটি উদ্ধারের জন্য তিনি জিডি করতে এসেছেন।

সিংড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের নবনির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক ও সিংড়া পৌরসভার মেয়র মো. জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, মুঠোফোনসহ মূল্যবান জিনিসপত্র হারানোর ঘটনায় তাঁরা দুঃখ পেয়েছেন। ব্যক্তিগত অবহেলার কারণেই হয়তো এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে। তবে ভবিষ্যতে অনুষ্ঠান করার সময় তাঁরা দলীয়ভাবেও বিষয়টি খেয়ালে রাখবেন।

সিংড়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) রফিকুল ইসলাম আজ সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে প্রথম আলোকে বলেন, আজ সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কোর্ট মাঠে অনুষ্ঠানে হারানো মুঠোফোনের বিষয়ে ১৬টি জিডি নথিভুক্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া প্রায় অর্ধশত মানুষ এসেছিলেন তাঁদের হারানো জিনিসপত্রের সন্ধানে। তবে ইন্টারন্যাশনাল মোবাইল ইকুইপমেন্ট আইডেনটিটি নম্বর (আইএমইআই) নম্বর ও সঠিক তথ্য দিতে না পারায় তাঁদের জিডি নেওয়া সম্ভব হয়নি।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন