বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আওয়ামী লীগ নেতা তাজিবুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, সভা চলাকালে একজন ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতা অভিযোগ করেন, গোলাম রাব্বানীর লোকজন বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিচ্ছেন। এ জন্য গোলাম রাব্বানীকে দায়ী করা হয়। তখন তাজিবুর রহমান বলেন, দলের কর্মী হয়ে কেউ যদি বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষে কাজ করেন, তবে তাঁকে বহিষ্কার করা হোক। এতে গোলাম রাব্বানীকে কেন দায়ী করা হচ্ছে। এ কথা বলার পরই জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সাংসদ আবদুল ওদুদ অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করে তেড়ে এসে তাঁকে ঘুষি মারেন। তিনি গোলাম রাব্বানীরও গায়ে হাত তোলেন। তাঁর সমর্থকেরাও মারধরে অংশ নেন।

মারধর থামাতে গিয়ে আমি নিজেও মারধরের শিকার হয়েছি। মারধর থামানোর সময় উভয় পক্ষকেই গালিগালাজ করেছি।
আবদুল ওদুদ, সাধারণ সম্পাদক, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগ

তাজিবুর রহমান বলেন, ‘আসলে তিনি (আবদুল ওদুদ) তলে তলে জামায়াতের সমর্থক একজন স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে কাজ করেন। সেটা ঢাকার জন্য আওয়ামী লীগ প্রার্থীর পক্ষে অতিরিক্ত দরদ দেখানোর ভান করতেই এসব আচরণ করছেন।’

জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি গোলাম রাব্বানী বলেন, ‘আবদুল ওদুদের উপস্থিতিতে তার সমর্থকেরা আমাকে ও তাজিবুর রহমানকে মারধর করে। তিনি (আবদুল ওদুদ) একপর্যায়ে অফিস থেকে চলে যাওয়ার পর বাইরে থেকে আসা তার সমর্থকেরা আবারও অফিসে ঢুকে আমাদের ওপর চড়াও হয়। নিচে আমার ব্যক্তিগত গাড়িতে আঘাত করা হয় এবং গাড়ির চালককেও মারধর করে তারা।’

এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আবদুল ওদুদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষে থাকার অভিযোগে গোলাম রাব্বানী ও তাজিবুর রহমানকে যুবলীগ ও ছাত্রলীগের কর্মীরা ক্ষুদ্ধ হয়ে মারধর করে। মারধর থামাতে গিয়ে আমি নিজেও মারধরের শিকার হয়েছি। মারধর থামানোর সময় উভয় পক্ষকেই গালিগালাজ করেছি।’

এ ব্যাপারে জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও নির্বাচন সমন্বয় কমিটির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা রুহুল আমীন প্রথম আলোকে বলেন, আসন্ন (৩০ নভেম্বর) পৌর নির্বাচন নিয়ে পৌর ওয়ার্ড কমিটির সভাপতি ও সম্পাদকদের নিয়ে সভা চলছিল। ৪ নম্বর ওয়ার্ড সভাপতি শফিকুল ইসলাম সভায় অভিযোগ করেন, গোলাম রাব্বানীর লোকজন বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষে কাজ করছে। এ নিয়ে সভায় উত্তেজনা তৈরি হয়। ধাক্কাধাক্কি শুরু হয়। তিনি হস্তক্ষেপ করে পরিস্থিতি শান্ত করেন। এরপর তিনি সভাস্থল কার্যালয়ের দ্বিতীয় তলা থেকে নেমে চলে আসেন। পরে কী হয়েছে, তা জানেন না।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন