বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

সদর উপজেলার কদমতলা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান সিহাব হোসেন শেখের নেতৃত্বে সন্ত্রাসীরা তাঁদের বাধা দিয়েও মিছিলটি পণ্ড করতে পারেনি। এ ঘটনার পরদিন বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সন্ত্রাসীরা উত্তর কদমতলা গ্রামে নাদিম খান ও মাসুদ খানের ওপর হামলা চালায়। এ সময় ধারালো অস্ত্রের কোপে নাদিমের ডান হাতের কবজি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। গুরুতর জখম নাদিম খান রাজধানীর পঙ্গু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এ ঘটনায় পিরোজপুর সদর থানায় ইউপি চেয়ারম্যান সিহাব হোসেন শেখ, তাঁর ভাই ফারুক শেখ, সিহাব হোসেনের ভাইয়ের ছেলে সদর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান এস এম বায়েজিদ হোসেনসহ ৩২ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করা হয়েছে। অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে ২৫ জনকে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয়, দীর্ঘদিন ধরে সিহাব, ফারুক ও বায়েজিদ সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালাচ্ছেন। গত বছরের ১৫ নভেম্বর পৌর যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল মাহাবুব সন্ত্রাসীদের গুলিতে মারা যান। গত ৮ ডিসেম্বর সদর উপজেলার শিকদারমল্লিক ইউনিয়নের যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ও ইউপি সদস্য রুহুল আমীন শেখকে সিহাবের লোকজন ধরে নিয়ে দুই পা ভেঙে দেন।

একের পর এক সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড সংঘটিত হলেও, সদর থানার ওসি আসামিদের গ্রেপ্তারে রহস্যজনক ভূমিকা পালন করছেন। নাদিম খানের ওপর হামলার ঘটনায় মামলার পর বাদী ও সাক্ষীদের ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। মামলার আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং বাদী ও সাক্ষীদের নিরাপত্তা দেওয়ার জন্য সংবাদ সম্মেলনে দাবি জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন সদর আওয়ামী লীগর সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম, পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আমিরুল ইসলাম, জেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আক্তারুজ্জামান, কদমতলা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হানিফ খান প্রমুখ।

কদমতলা ইউপির চেয়ারম্যান সিহাব হোসেন শেখ বলেন, ‘এ ঘটনায় আমি জড়িত নই। ঘটনার সময় আমি ইউনিয়ন পরিষদে ছিলাম। আমরা সন্ত্রাসীদের ভয়ে স্বাভাবিক চলাফেরা করতে পারি না। আমরা মারামারি করব কেন?’

বায়েজিদ হোসেন বলেন, ‘আমি ঢাকায় আছি। এ ঘটনায় আমার কোনো ইন্ধন নেই।’
পিরোজপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আ জ ম মাসুদুজ্জামান বলেন, এ ঘটনায় মামলা নেওয়া হয়েছে। মিজান হাওলাদার নামের এক আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

উল্লেখ্য, পিরোজপুর-১ আসনের সাংসদ মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিমের সঙ্গে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক সাংসদ এ কে এম এ আউয়ালের বিরোধ রয়েছে। আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই নেতার অনুসারীরা প্রায়ই বিরোধে জড়িয়ে পড়ছেন। বায়েজিদ ও সিহাব হোসেন মন্ত্রী রেজাউল করিমের অনুসারী। অন্যদিকে কদমতলা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান হানিফ খান সাবেক সাংসদ আউয়ালের অনুসারী। গত বছরের ৭ নভেম্বর সদর উপজেলার শংকরপাশা ইউপির নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণা চালাতে গিয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী নাসির উদ্দিন মাতুব্বরের গুলিতে পৌর যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল মাহাবুব গুলিবিদ্ধ হয়ে ১৫ নভেম্বর রাতে মারা যান। নাসির উদ্দিন শ ম রেজাউল করিমের অনুসারী। ফয়সাল মাহাবুব আউয়ালের অনুসারী ছিলেন।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন