বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

খেয়ার দায়িত্বে থাকা ওই মাঝির নাম স্বপন মৃধা (৩০)। স্বপন বলেন, স্থানীয় শামীম মাতব্বর (৩৮) তাঁকে দিয়ে ওই খেয়া চালাচ্ছেন। এ জন্য প্রতিদিন তাঁকে এক হাজার টাকা করে দেন শামীম মাতব্বর।

শামীম নাজিরপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহদপ্তর সম্পাদক। তিনি নাজিরপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সাবেক চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইব্রাহিম ফারুকের ভাগনে। মামার প্রভাবেই শামীম অবৈধভাবে ওই খেয়া চালাচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

নিমদী খেয়াঘাট ইজারা দেওয়ার কোনো তথ্য ইউপি কার্যালয়ে নেই। ইজারা না দেওয়ায় মানুষ হয়রানির শিকার হচ্ছেন।
রুবেল তালুকদার, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান, নাজিরপুর ইউপি

এ সম্পর্কে আওয়ামী লীগ নেতা শামীম বলেন, তিনি সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান তাঁর মামা ইব্রাহিম ফারুকের কাছ থেকে চলতি বছরের জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি মাসে ৫০ হাজার টাকায় নিমদী খেয়াঘাট ইজারা নিয়েছেন, যা প্যানেল চেয়ারম্যান আবদুল লতিফ মোল্লা জানেন।

এ খেয়া দিয়ে প্রতিদিন পাঁচ শতাধিক মানুষ পারাপার হন। আসা-যাওয়া বাবদ ২০ টাকা দিতে হয়। মোটরসাইকেল পারাপারের জন্য দিতে হয় ৫০ টাকা। ইউএনও কার্যালয়ের ইজারা শাখা থেকে জানা যায়, প্রতিবছর মার্চ মাসে হাটবাজার ও খেয়াঘাট ইজারা দেওয়া হয়। জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি মাসে খেয়াঘাট ইজারা দেওয়ার সুযোগ নেই।

নাজিরপুর ইউপি কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের ৭ ফেব্রুয়ারি নাজিরপুর ইউপি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ওই নির্বাচনে ইউপি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী আমির হোসেন ব্যাপারী। তিনি শপথ নেওয়ার আগেই গত ১৯ ফেব্রুয়ারি মারা যান। ইউপি সদস্যরা ২৮ ফেব্রুয়ারি শপথ নেন। ৪ এপ্রিল ইউপি সদস্যদের গোপন ভোটের মাধ্যমে ১ নম্বর প্যানেল চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন রুবেল তালুকদার। তিনিই বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যানের দায়িত্বে আছেন। তাই আগের চেয়ারম্যান কিংবা প্যানেল চেয়ারম্যানের ইজারা দেওয়ার সুযোগ নেই।

এর আগে গত বছরের ডিসেম্বর মাসে ওই সময়ের নাজিরপুরের ইউপি চেয়ারম্যান ইব্রাহিম ফারুক চেয়ারম্যানের পদ থেকে পদত্যাগ করে তাঁর ভোটার পরিবর্তন করে পৌরসভার মেয়র পদে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চেয়েছিলেন। সেই থেকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্বে ছিলেন ওই সময়ের প্যানেল চেয়ারম্যান আবদুল লতিফ মোল্লা।

নিমদী খেয়াঘাট ইজারা দেওয়ার বিষয়ে আবদুল লতিফ মোল্লা বলেন, ‘আমি এ বিষয়ে কিছুই জানি না। কোনো খেয়াঘাট ইজারা দিইনি কিংবা টাকাপয়সা নেইনি।’

ভারপ্রাপ্ত ইউপি চেয়ারম্যান রুবেল তালুকদার বলেন, নিমদী খেয়াঘাট ইজারা দেওয়ার কোনো তথ্য ইউপি কার্যালয়ে নেই। খেয়াঘাটটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ইজারা না দেওয়ায় মানুষ হয়রানির শিকার হচ্ছেন। আওয়ামী লীগ নেতা শামীম খেয়াঘাট নিয়ন্ত্রণে রেখে খেয়াল খুশিমতে টোল আদায় করছেন। তিনি দ্রুততম সময়ের মধ্যে ইজারা দিয়ে সরকারি রাজস্ব আদায়ের দাবি জানান।

উপজেলা ইজারা কমিটির সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল মোতালেব হাওলাদার বলেন, ‘এলাকাবাসীর আবেদন পেয়েছি। যেহেতু দুই ইউনিয়নের মধ্যবর্তী খেয়া। তাই এককভাবে একটি ইউনিয়নের পক্ষে ইজারা দেওয়ার সুযোগ নেই। ইজারা না নিয়ে কোনো ব্যক্তি খেয়াঘাটের টোল আদায় করতে পারেন না। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ইউএনওকে চিঠি দিয়েছি।’

ইউএনও মো. আল-আমিন বলেন, ‘এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন