বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

অগ্রণী ব্যাংক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮ সালের দিকে ফয়সাল আহম্মেদের নামে নাচনাপাড়ায় এজেন্ট ব্যাংকিং কার্যক্রম শুরু হয়। এটি অগ্রণী ব্যাংকের কাকচিড়া শাখার তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হচ্ছিল। কার্যক্রম শুরুর পর সঞ্চয়ী হিসাব, ডিপিএস ও স্থায়ী আমানত খোলার মাধ্যমে আমানত সংগ্রহ করা হয়। গ্রামের বিভিন্ন শ্রেণি–পেশার মানুষ এখানে সেবা নিতে শুরু করেন। ২০২১ সালের আগস্ট থেকে ২০২২ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত এজেন্ট ব্যাংকিং শাখায় অনিয়ম ও গ্রাহকের টাকা আত্মসাতের ঘটনা ঘটে। বিষয়টি জানাজানি হলে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ গত ২৭ জানুয়ারি ফয়সাল আহম্মেদের সঙ্গে চুক্তি বাতিল করেন। তবে এখনো কোনো আইনি ব্যবস্থা নেয়নি ব্যাংক কর্তৃপক্ষ।

নাচনাপাড়া ইউনিয়নের বাসিন্দা অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য গোলাম মোস্তফা প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমার স্ত্রী খাদিজা আক্তারের নামে পেনশনের ৪ লাখ ২৫ হাজার টাকা জমা রাখি। পরে জানতে পারি, ওই সঞ্চয়ী হিসাব নম্বরে মাত্র সাত হাজার টাকা জমা, বাকি টাকার কোনো হদিস নেই। পরবর্তী সময়ে এজেন্ট ফয়সাল আহম্মেদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি টাকা দেবেন বলে ঘোরাচ্ছেন, এখনো টাকা পাইনি।’

পাথরঘাটা উপজেলার সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার হাবিবুর রহমান মৃধা বলেন, তিনি সঞ্চয়ী হিসাব নম্বরে ২০ লাখ টাকা জমা রাখেন। পরে বিশেষ কারণে দুই লাখ টাকা ব্যাংক থেকে তোলার সময় জানতে পারেন, তাঁর সঞ্চয়ী হিসাব নম্বরে কোনো টাকা নেই। তিনি বলেন, এ ঘটনায় কাকচিড়া শাখার ম্যানেজার রফিকুল ইসলাম ও ফয়সাল আহম্মেদকে চাপ দিলে তাঁরা দ্রুত টাকা পরিশোধ করেন।

নাম–পরিচয় গোপন রাখার শর্তে ব্যাংকের একাধিক গ্রাহক প্রথম আলোকে বলেন, দেড় শতাধিক গ্রাহক সেখানে সঞ্চয়ী হিসাব খুলেছিলেন। এ শাখায় অনেকে বিদ্যুৎ বিল জমা দিলেও ওই বিল বিদ্যুৎ শাখায় জমা না দিয়ে আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে।

এ ব্যাপারে অগ্রণী ব্যাংকের দুয়ার ব্যাংকিং কার্যক্রমের অ্যাসিস্ট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট গাফফার খান প্রথম আলোকে বলেন, অনিয়ম জানতে পেরেই গত ডিসেম্বরে লেনদেন বন্ধ রাখা হয়। পরে ২৭ জানুয়ারি ফয়সাল আহম্মেদের সঙ্গে ব্যাংকের চুক্তি বাতিল করে পুরোপুরি ওই এজেন্ট ব্যাংকিং বন্ধ করে দেওয়া হয়। নিরীক্ষা ও তদন্ত করে প্রায় আড়াই লাখ টাকার আমানত গচ্ছিত রাখার কাগজপত্র জব্দ করা হয়। এই ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন বলে জানান ওই কর্মকর্তা।

গ্রাহকের এক কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগের বিষয়ে গাফফার খান বলেন, কথাটি তাঁরা শুনেছেন। তবে তাঁরা ব্যাংকে আড়াই লাখ টাকা জমা রাখার কাগজপত্র পেয়েছেন। এরই মধ্যে গ্রাহকের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ৩০ লাখ টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে। বাকি টাকা ফেরতের প্রক্রিয়া চলছে। আগামী বৃহস্পতিবার সম্পূর্ণ টাকা দেবেন বলে তিনি গ্রাহকের কাছে ওয়াদা করেছেন।

অভিযোগ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগ নেতা ফয়সাল আহম্মেদ বলেন, ‘আমাদের কাছে গ্রাহক প্রায় ২২ লাখ টাকা পাবেন। এর বাইরে বেশ কিছু টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। ওই ২২ লাখ টাকাও দু–চার দিনের মধ্যে পরিশোধের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তবে এসব বিষয়ে আমার জানা ছিল না। আমার ব্যাংকে মিরাজ নামে যে লোকটি ছিল, সে এসব অনিয়মের কাজ–কারবার করেছে।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন