বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আজ শনিবার সিরাজুল ইসলামের ভাই রুহুল আমীন ঢালী বাদী হয়ে সদরের পালং মডেল থানায় একটি মামলা করেছেন। মামলায় স্বতন্ত্র প্রার্থী হাবিবুর রহমানসহ ৫৯ ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। এ ছাড়া পুলিশের ওপর হামলা করার অভিযোগে আরেকটি মামলা করেছেন উপপরিদর্শক গৌতম তেওয়ারী। সেই মামলায় ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য প্রার্থী টুটুল ঢালী, হাবিবুর রহমানের ভাতিজা জসিম ঢালীসহ ৩১ ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।

আওয়ামী লীগ সূত্র জানায়, ১১ নভেম্বর শরীয়তপুর সদরের রুদ্রকর ইউপিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ওই ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম ঢালী, আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন বর্তমান চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি হাবিবুর রহমান ঢালী। গত ৩০ অক্টোবর শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে আওয়ামী লীগের সভাপতির পদ থেকে হাবিবুর রহমানকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ব্যক্তিরা ও পুলিশ জানায়, গতকাল রুদ্রকরের নয়াকান্দি এলাকায় গণসংযোগ করেন আওয়ামী লীগ প্রার্থী সিরাজুল ইসলাম। রাতে সাড়ে ১০টার দিকে কর্মীদের নিয়ে তিনি সুবচনি বাজারে আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে আসেন। রাত ১১টার দিকে ওই কার্যালয়ে ককটেল ও ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হয়। এ সময় আওয়ামী লীগের কার্যালয়, শেখ হাসিনা ও বঙ্গবন্ধুর ছবি ভাঙচুর করা হয়। এতে সিরাজুল ইসলামের ডান চোখে আঘাত লাগে। বর্তমানে তিনি ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ওই হামলায় সিরাজুল ইসলামের আরও ১৪ সমর্থক আহত হয়েছেন।

এদিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে ১০৬টি ফাঁকা গুলি ছুড়তে হয়েছে। হাবিবুর রহমানের সমর্থকেরা পুলিশের ওপর হামলা করলে পালং মডেল থানার উপপরিদর্শক গৌতম তেওয়ারী, কনস্টেবল ইকবাল হোসেন, রাজিব গাইন, জাকির হোসেন, ফরিদ হোসেন, রেজওয়ান, রমেশ চন্দ্র ও মিনহাজ উদ্দিন আহত হন।

সিরাজুল ইসলামের ভাই রুহুল আমীন ঢালী বলেন, ‘আমাদের নির্বাচনের মাঠ থেকে সরিয়ে দিতে হামলা চালানো হয়েছে। হামলায় বিভিন্ন ডাকাতি মামলা, হত্যা মামলার আসামি ও ভয়ংকর সন্ত্রাসীরা অংশ নিয়েছেন।’

এ বিষয়ে হাবিবুর রহমান ঢালীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। মুঠোফোনে কল দিলেও তিনি ধরেননি। খুদে বার্তা দিয়েও সারা মেলেনি। তবে তাঁর ভাই সেলিম ঢালী বলেন, ‘আমাদের কোনো সমর্থকেরা হামলা চালায়নি। আওয়ামী লীগের প্রার্থীর সমর্থকেরা নিজেরাই এ কাজ করে আমাদের ওপর দায় চাপাচ্ছে।’

শরীয়তপুর সদরের পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আক্তার হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, আহত পুলিশ সদস্যদের সদর হাসপাতালে চিকিৎসা চলছে। এ ঘটনায় দুটি মামলা নথিভুক্ত করা হয়েছে। অভিযুক্ত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারের জন্য চেষ্টা চলছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন