রাজশাহীর বাঘা উপজেলার আড়ানী পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী মুক্তারের সমর্থকেরা দলীয় মেয়র প্রার্থীর নির্বাচনী কার্যালয় ও সমর্থকদের দোকানপাট ভাঙচুর করেন
রাজশাহীর বাঘা উপজেলার আড়ানী পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী মুক্তারের সমর্থকেরা দলীয় মেয়র প্রার্থীর নির্বাচনী কার্যালয় ও সমর্থকদের দোকানপাট ভাঙচুর করেন প্রথম আলো

রাজশাহীর বাঘা উপজেলার আড়ানী পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী মুক্তার আলীর সমর্থকদের বিরুদ্ধে দলীয় প্রার্থীর পথসভায় বোমা হামলা ও গুলি চালানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে। হামলাকারীরা আওয়ামী লীগ প্রার্থীর নির্বাচনী কার্যালয়সহ শতাধিক দোকানপাট ভাঙচুর ও লুটপাট করে অগ্নিসংযোগ করেছেন। এ ঘটনায় রাতেই বাঘা থানায় উপজেলা যুবলীগের সভাপতি কামরুজ্জামান বাদী হয়ে একটি মামলা করেন। এতে বর্তমান মেয়র ও বিদ্রোহী প্রার্থী মুক্তার আলীসহ প্রায় ৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে। পুলিশ এ ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তার করেছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, রাত সাড়ে নয়টার দিকে আওয়ামী লীগ–সমর্থিত মেয়র প্রার্থী শাহীদুজ্জামানের পথসভার প্রায় শেষ মুহূর্তে বিদ্রোহী প্রার্থী মুক্তার আলীর নেতৃত্বে ১৫ থেকে ২০ জন সশস্ত্র সমর্থক আকস্মিক হামলা চালান। এ সময় মুক্তার আলীসহ তাঁর সমর্থকেরা গুলিবর্ষণ শুরু করেন এবং বোমা হামলা চালান। প্রাণের ভয়ে এ সময় শাহীদের সমর্থকেরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।

এরপর মুক্তার মাইকিং করে তাঁর সমর্থকদের ডাকেন। শহীদুজ্জামান উপস্থিত নেতা-কর্মীদের নিয়ে মুক্তারের সমর্থকদের প্রতিরোধের চেষ্টা করেন। এ সময় মুক্তারের পাঁচ শতাধিক সমর্থক ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। তাঁদের মধ্যে সশস্ত্র কয়েকজন সমর্থক গুলিবর্ষণ শুরু করেন। বোমা হামলা চালান। দেশীয় ধারালো অস্ত্র নিয়ে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর সমর্থকদের তাড়া করেন। মুক্তারের সমর্থকদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে এ সময় শাহীদজ্জামানের ভাগনে তুষার আহত হন। একপর্যায়ে মুক্তারের সমর্থকেরা সেখানে নৌকা প্রার্থীরা নির্বাচনী কার্যালয় এবং মেয়র প্রার্থী শহীদুজ্জামানের ব্যক্তিগত কার্যালয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেন। এ ছাড়া শহীদুজ্জামানের সমর্থকদের শতাধিক দোকানে লুটপাট ভাঙচুর এবং অগ্নিসংযোগ করা হয়।

বিজ্ঞাপন

বাঘা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নজরুল ইসলাম ইসলাম বলেন, আওয়ামী লীগের প্রার্থী শহীদুজ্জামানের পথসভার পাশ দিয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী মুক্তার আলীর কয়েকজন সমর্থক মোটরসাইকেল নিয়ে যাচ্ছিলেন। এ সময় দুই প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। এর জের ধরেই পরে হামলার ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের পর ঘটনাস্থল থেকে তাঁরা বিস্ফোরিত ও অবিস্ফোরিত ককটেল উদ্ধার করেছেন। গুলির শব্দ শোনা গেছে, দোকানপাট ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। তিনি বলেন, এ ব্যাপারে দায়ের করা মামলায় মিলন নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই মিলনের বিরুদ্ধে সাংবাদিকদের ওপর হামলার অভিযোগ রয়েছে।

৮ জানুয়ারি দুপুরে আড়ানী পৌরসভা নির্বাচনের সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে মাছরাঙা টেলিভিশন রাজশাহীর ক্যামেরাপারসন মাহফুজুর রহমান রুবেল ও দীপ্ত টিভির ক্যামেরাপারসন রফিকুল ইসলামের ওপর মিলন ও তাঁর সমর্থকেরা হামলা করেন। ঘটনাস্থলে রাজশাহী জেলা যুব মহিলা লীগের সাধারণ সম্পাদক বিপাশা খাতুনসহ তাঁর সমর্থকেরা ছিলেন। মিলনের নেতৃত্বে তাঁদের ওপরও হামলা চালানো হয়। এ বিষয়ে তাঁরা উপজেলা নির্বাচন অফিসারের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন।

মুক্তার আলী আড়ানী পৌরসভার বর্তমান মেয়র। এবারও তিনি আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চেয়েছিলেন। কিন্তু দল থেকে মনোনয়ন না পাওয়ায় বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এ কারণে তাঁকে আড়ানী পৌর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন আড়ানী পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি শহীদুজ্জামান।

মন্তব্য করুন