default-image

করোনায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় বন্ধু ও সহপাঠীরা যখন অলস সময় কাটাচ্ছে, তখন আলু চাষে মনোযোগী হয়ে দারুণ সাফল্য দেখিয়েছে কিশোরগঞ্জের কিশোর মো. ফাজায়েল আলম। ১৭ বছরের এই ছেলে কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর সরকারি মডেল পাইলট স্কুল অ্যান্ড কলেজের উচ্চমাধ্যমিকের প্রথম বর্ষের ছাত্র।

গত বছর করোনা সংক্রমণের শুরুতে স্কুল-কলেজ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বাড়িতে সময় কাটছিল ফাজায়েল আলমের। সময়টা কাজে লাগানোর জন্য সে তার বড় ভাইদের কাছে কৃষিকাজে সম্পৃক্ত হওয়ার ইচ্ছে পোষণ করে। বড় ভাইয়েরা আলু চাষের জন্য তাকে তিন একর জমি বরাদ্দ দেন। জমিতে বারি আলু-২৫ (এসটেরিক্স) চাষ করে ফাজায়েল। ফলনও হয়েছে বাম্পার। সেই আলু থেকে চলতি মৌসুমে আড়াই থেকে তিন লাখ টাকা আয়ের প্রত্যাশা করছে এই কিশোর। এমন সাফল্যে ফাজায়েল ও তার পরিবারের সদস্যরা বেশ উচ্ছ্বসিত।

ফাজায়েল আলমের বড় ভাই জহিরুল ইসলাম বলেন, দু-তিন বছর আগে থেকে ফাজায়েল আলাদাভাবে কৃষিকাজ করতে চাইলে পড়াশোনা ব্যাহত হবে বলে দেওয়া হয়নি। তবে এবার করোনায় কলেজ বন্ধ থাকায় বাধা দেওয়া হয়নি। সে নিজ চেষ্টায় তিন একর জমিতে আলু চাষ করে বাম্পার ফলন পেয়েছে। এতে ফাজায়েলের পাশাপাশি তাঁরাও খুশি।

বিজ্ঞাপন
default-image

গত মঙ্গলবার সরেজমিনে দেখা যায়, ফাজায়েল অন্যদের নিয়ে জমি থেকে আলু তোলার কাজ করছে। এ সময় ফাজায়েল ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রতি একর জমিতে আলু চাষে খরচ হয়েছে ৯০ হাজার টাকা। তিন একরে খরচ পড়েছে প্রায় ২ লাখ ৭০ হাজার টাকা। প্রতি একর জমির আলু ১ লাখ ৮০ হাজার থেকে ২ লাখ টাকা বিক্রি করা সম্ভব। সে হিসাবে সাড়ে ৫ থেকে ৬ লাখ টাকার আলু বিক্রি আশা করা হচ্ছে। আর এতে আয় হবে প্রায় আড়াই থেকে তিন লাখ টাকা।

স্থানীয় কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, হোসেনপুর চর এলাকা হওয়ায় এখানে আলু চাষ ভালো হয়। এবার উপজেলায় ৩৭০ হেক্টর জমিতে আলু চাষ হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূল থাকার পাশাপাশি কৃষি বিভাগের নিয়মিত তদারকি ও কৃষকদের পরামর্শ দেওয়ায় আলুর বাম্পার ফলন হয়েছে। আশা করা হচ্ছে, এবার উপজেলায় ২৫ থেকে ৩০ মেট্রিক টন আলুর ফলন হবে, যার বাজারমূল্য প্রায় ২০ কোটি টাকা।

হোসেনপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কৃষি কর্মকর্তা মো. ইমরুল কায়েস বলেন, কলেজছাত্র ফাজায়েলকে হোসেনপুরের কৃষিতে মডেল বলা চলে। আলু চাষ করে সে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। এটা অন্য যুবকদের জন্য উদাহরণ হতে পারে। পড়া শেষ করে শুধু চাকরির পেছনে দৌড়ে বেকার সময় না কাটিয়ে পৈতৃক জমি বা অন্যের জমি পত্তন নিয়ে ফাজায়েলের মতো কৃষিতে অনেকেই এ রকম সফলতা অর্জন করতে পারে। এতে দেশে বেকার সমস্যার সমাধানের পাশাপাশি আর্থিক সমৃদ্ধিও আসবে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন