বিজ্ঞাপন

আমির হোসেনের ঢোল-তবলা বাজানোর অভ্যাস আছে। দারুণ তাল ওঠাতে পারেন তিনি। কিন্তু সেটাকে কাজে লাগানোর মতো সুযোগ তাঁর জোটে না। কালেভদ্রে পাড়ায় ছোটখাটো আয়োজনে ডাক পেলে তবলা বাজান। দৃষ্টিশক্তির অক্ষমতার কারণে অন্য কোনো পেশায় যুক্ত হতে পারেননি তাঁদের কেউ। আমির হোসেন ছাড়া এই পরিবারের অন্য সদস্যরা হলেন আমির হোসেনের স্ত্রী শিউলি আক্তার (৩০), নাসরিন আক্তার (৩০), হাসিনা আক্তার (৩২), জাকির হোসেন (২৫), জাকির হোসেনের সন্তান জোনাকি আক্তার (১১), হাসিনার সন্তান রূপা আক্তার (১২)।

গত বুধবার সকালে জাকির হোসেনের সঙ্গে কথা হয়। তিনি বলেন, শ্রীপুরের সাদ্দাম হোসেন নামের এক ব্যবসায়ী এই ঈদে তাঁদের জন্য প্রয়োজনীয় সব বাজারঘাট করে বাড়িতে দিয়ে গেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিবারের মানবিক বিষয়টি প্রকাশ পাওয়ার পর ওই ব্যবসায়ী তাঁদের পাশে এসে দাঁড়ান।

জাকির হোসেন বলেন, ‘অন্ধত্ব নিয়ে আমরা পুরো পরিবার চরম কষ্টে আছি। এটা ভাগ্যের নির্মম পরিহাস। তাই আক্ষেপ নেই, তবে কষ্ট আছে।’ তিনি আরও বলেন, তাঁদের পরিবারের কেউ পড়াশোনা করার সুযোগ পাননি। আশপাশের কোথাও দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের জন্য পড়াশোনার সুযোগ নেই। শ্রীপুর উপজেলায় দৃষ্টিহীন অনেকেই আছেন। তাঁদের পড়াশোনার সুযোগ সৃষ্টির দাবিও করেন তিনি।

জীবনের পুরোটা সময় ধরেই তাঁরা অবর্ণনীয় কষ্ট সহ্য করে চলেছেন বলে জানান জন্মান্ধ আমির হোসেন। তাঁর ভাষ্য, সামাজিক অবহেলা, পারিবারিক দৈন্য দশা, বিকল্প সক্ষমতা তৈরি করতে না পারায় এখন জীবনের আর কোনো লক্ষ্য নেই। শুধু বেঁচে থাকাটাই বড় চাওয়া। আক্ষেপ করে আমির বললেন, ‘আমরা সবাই অন্ধ। কোনো কাজ করার সুযোগ নাই। নিজেগরে ভাগ্যের উপ্রে ছাইড়া দিছি।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন