default-image

রাজশাহীতে দুই বন্ধুর তর্কাতর্কির জের ধরে ছুরিকাঘাতে এক আনসার সদস্য নিহত হয়েছেন। গতকাল শনিবার রাত ৮টার দিকে নগরের হেতেমখাঁ এলাকায় রাস্তার ধারের একটি দোকানের আলো (বাল্ব) নেভানোকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার সাড়ে ৩ ঘণ্টার মাথায় পুলিশ অভিযুক্ত মাধব কুমারকে আটক করেছে।

নিহত ওই আনসার সদস্য হলেন মিজানুর রহমান (৪০)। তাঁর বাবার নাম মনুসুর রহমান। বাড়ি নগরের হেতেমখাঁ সবজিপাড়া এলাকায়। তিনি ভালো হ্যান্ডবল ও বাসকেট বল খেলতেন। খেলোয়াড় কোটাতে আনসার বাহিনীতে চাকরি পান। কর্মরত ছিলেন গাজীপুরের সফিপুরে আনসার বাহিনীর সদর দপ্তরে। এক দিন আগেই তিনি বাড়িতে এসেছিলেন।

স্থানীয় লোকজন বলেন, গতকাল রাত আটটার দিকে রাস্তার পাশে রেজা নামের এক দোকানি বাইরে আলো (বাল্ব) জ্বালিয়ে রেখেছিলেন। মিজানুর রহমান গিয়ে লকডাউনের কথা বলে তাঁকে বাল্বটি নেভাতে বলেন। এ নিয়ে আপত্তি করেন তাঁর বন্ধু মাধব কুমার। মাধব বলেন, ‘বাল্ব নেভাতে হবে কেন?’ এ নিয়ে দুই বন্ধুর মধ্যে তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়ে যায়। একপর্যায়ে মিজানুর রহমান পাশেই ওয়াসার একটি কোয়ার্টারে চলে যান। কিছুক্ষণ পরই মাধব সেখানে গিয়ে মিজানুরকে ছুরিকাঘাত করেন।

বিজ্ঞাপন

রাজশাহী নগর পুলিশের মুখপাত্র গোলাম রুহুল কুদ্দুস বলেন, মিজানুর রহমানের বুকের ঠিক মাঝখানে আঘাত করা হয়েছে। এতে তাঁর মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার সময় সেখানে তাঁদের বন্ধু রনী, রানা ও রাজু উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা আহত অবস্থায় মিজানুর রহমানকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রনী, রানা ও রাজকে আটক করা হয়েছে। নগরের বোয়ালিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নিবারণ চন্দ্র বর্মণ বলেন, আটক বন্ধুদের জবানবন্দি রেকর্ড করার জন্য আদালতে পাঠানো হবে। এদিকে মাধব কুমার ওই ঘটনার কথা স্বীকার করেছেন। তাঁকেও আদালতে সোপর্দ করা হবে।

পুলিশ জানায়, রাতেই বিক্ষুব্ধ জনতা দুই দফা মাধবের বাসায় হামলার চেষ্টা করেছেন। পুলিশ তাঁদের নিবৃত্ত করেছে। বিক্ষোভকারীরা রাস্তার ওপর আগুন জ্বালিয়েও প্রতিবাদ করার চেষ্টা করেন। পরে অভিযুক্ত মাধবকে আটকের পর তাঁরা শান্ত হয়েছেন। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন