বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

নিলুফা বেগম তিন মাস অন্তর মাসিক মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্রের একজন গ্রাহক। তাঁর বাড়ি নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলায়। তিনি বলেন, এক বছর ধরে লভ্যাংশ তোলা নিয়ে খুব ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

টানা কয়েক দিন এসে লভ্যাংশ পাননি রেখা চৌধুরী নামের এক গ্রাহক। তিনি বলেন, ‘প্রতিদিন আশা নিয়ে ডাকঘরে পা ফেলি। কয়েক ঘণ্টা অপেক্ষা করে ফিরি হতাশ হয়ে।’

ডাকঘর সূত্র জানায়, ভৈরব ডাকঘরে দুই বছর আগেও সব ধরনের সঞ্চয়পত্র মিলে অন্তত আট হাজার গ্রাহক ছিলেন। বর্তমানে তা কমে প্রায় দুই হাজারে নেমে এসেছে। সঞ্চয়পত্রের লভ্যাংশসহ অন্যান্য সেবার ব্যয় মেটাতে প্রতিদিন ২০ লাখ টাকার প্রয়োজন হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গেল বছরের ৩১ জুলাই থেকে ডাকঘরে অর্থসংকট দেখা যায়। ওই তারিখে সরকারি এক ঘোষণায় নতুন বিধিমালা না হওয়া পর্যন্ত সঞ্চয়পত্র বিক্রি বন্ধের ঘোষণা আসে। এর পর থেকে আয়ে ভাটা পড়ে। আর এখন সঞ্চয়পত্র বিক্রির প্রক্রিয়াটি হয় ব্যাংকের মাধ্যমে। ফলে গ্রাহক বিক্রির টাকা ব্যাংকের মাধ্যমে পরিশোধ করেন। আবার লভ্যাংশও আসে ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে। সেবাটি ডাক বিভাগের হলেও নতুন গ্রাহকদের ক্ষেত্রে আর্থিক লেনদেনের সঙ্গে বিভাগটির কোনো সম্পর্ক নেই। সমস্যা হয়েছে পুরোনো গ্রাহকদের নিয়ে। এখনো পুরোনো গ্রাহকদের লভ্যাংশ মেটানোর কর্তৃপক্ষ ডাকঘর। ফলে প্রতিদিন বড় অঙ্কের টাকার প্রয়োজন হচ্ছে। কিন্তু দিনে একটি সঞ্চয়পত্রের বিক্রির টাকাও তাদের হাতে আসছে না। আয়-ব্যয়ের এমন তারতম্যের কারণে সেবা দিতে গিয়ে বিভাগটির কর্মকর্তাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে।

২১ সেপ্টেম্বর সঞ্চয়পত্রের লভ্যাংশ দেওয়ার দায়িত্বে ছিলেন পোস্টাল অপারেটর মো. আলমগীর ও শাহানা আক্তার। আলমগীর বলেন, ‘খুবই সমস্যা। গ্রাহকেরা টাকা চান। আমরা দিতে পারছি না। এই পরিস্থিতি মোকাবিলা করা কত কঠিন, তা সহজে বোঝা যায় না।’

ভৈরব শাখা সূত্র জানায়, বর্তমানে চাহিদার অর্থের জোগান আসে ডাক বিভাগ জেলা কার্যালয় থেকে। টাকা পেতে লিখিতভাবে চাহিদা পাঠাতে হয়। পরে জেলা কার্যালয় থেকে পোস্ট অফিসের হিসাব নম্বরে টাকা পাঠানো হয়। নানা প্রক্রিয়ার মাধ্যমে টাকা পেতে গিয়ে বিড়ম্বনা বাড়ছে এবং অর্থসংকট আরও বড় হচ্ছে। শিগগির এই সংকট দূর হওয়ার নয়। কারণ, চাহিদা ও জোগানের পার্থক্য বড় হচ্ছে।

ডাকঘর ভৈরব শাখার পোস্টমাস্টার আনোয়ার হোসেন বলেন, আয়ের সঙ্গে ব্যয়ের পার্থক্যটা বড় হয়ে যাওয়ায় মাঝেমধ্যে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন