বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

সইপাড়া-ভবানীগঞ্জ সড়কের বাগমারার গণিপুর ও বাসুপাড়ার সীমান্ত এলাকায় কুচুয়ামারা খালের মুখে ওই জলকপাট। এর মাধ্যমে ফকিন্নি নদী থেকে খাল দিয়ে পানি সোনাবিলে প্রবেশ করে বেরিয়ে যায়। বন্যা নিয়ন্ত্রণ, ফসল রক্ষা ও চাষাবাদের সুবিধার জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ড জলকপাটটি নির্মাণ করে। এটি নির্মাণের ফলে বাসুপাড়া ও গণিপুর ইউনিয়নের সোনাবিলে চাষাবাদে সুফল মেলে ও বন্যায় ফসল রক্ষা পায়। জলকপাটের কারণে চাষের সুবিধার জন্য খালে পানি ধরে রাখাও সম্ভব হয়। দুই ইউনিয়নের প্রায় ২০ হাজার কৃষক এই জলকপাটের সুফল ভোগ করে আসছেন।
আজ শুক্রবার সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, সংস্কার না করায় জলকপাটের কপাট নষ্ট হয়ে গেছে। ভেঙে যাওয়ার পাশাপাশি কপাটগুলো অকেজো হয়ে পড়েছে। কপাটের উভয় পাশে ঢেউটিন দিয়ে আটকানো আছে।

বাগমারা গ্রামের পানচাষি মজনুর রহমান বলেন, জলকপাট নষ্ট থাকার কারণে গত বছর বন্যার পানি বিলে ঢুকে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। পানের বরজসহ তাঁর প্রায় ১২ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।

গণিপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান বলেন, জলকপাটটি অকার্যকর হয়ে যাওয়ায় গত বছরের বন্যায় কপাট দিয়ে সরাসরি পানি বিলে প্রবেশ করে তাহির একডালা, বাগমারা, মাঝিগ্রাম, মোহাম্মদপুর, বালানগর, চক মহব্বতপুরসহ কয়েকটি গ্রামের ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। শত শত কৃষক নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন। জরুরি ভিত্তিতে জলকপাটটি সংস্কার করা দরকার।

জলকপাটটি আশীর্বাদের পরিবর্তে এখন অভিশাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে মন্তব্য করেন স্থানীয় ইউপি সদস্য আবদুস সোবহান। তিনি আরও বলেন, বর্ষার আগে সংস্কার করা না হলে অনেক চাষি হয়তো ধান চাষ করবেন না।

জলকপাটটি নষ্ট থাকায় এলাকার কৃষকদের ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে বলে জানান উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রাজিবুর রহমান। তিনি বলেন, বর্ষার আগে জলকপাটটি সংস্কার করা হলে চাষিরা কিছুটা আতঙ্কমুক্ত হয়ে চাষাবাদ করতে পারতেন। জলকপাটটি সংস্কারের জন্য উপজেলা মাসিক সমন্বয় সভায় একাধিকবার আলোচনা হয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড রাজশাহী বিভাগের উপসহকারী প্রকৌশলী আমজাদ হোসেন বলেন, রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের জলকপাট সংস্কারের বিষয়টি বগুড়া মেকানিক্যাল দপ্তর দেখভাল করে। কৃষকদের আবেদনপত্রটি সেখানে পাঠানো হয়েছে। তারা এ বিষয়ে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেবে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন