বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

৩১ নম্বর দোসাইদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রেও নৌকা প্রতীকে প্রকাশ্যে সিল মারার অভিযোগ করেছেন প্রার্থী ও ভোটাররা।

অভিযোগের বিষয়ে আশুলিয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রের উপপরিদর্শক (এসআই) মফিজুর রহমান বলেন, ‘আমার দায়িত্ব আমি পালন করছি। এখানে কে কী অভিযোগ করল, তা দেখার বিষয় নয়। নির্বাচন সুষ্ঠু হচ্ছে, জোর করে নৌকা প্রতীকে সিল মারা অসম্ভব।’

আশুলিয়া ইউনিয়নের স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. হেলাল উদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি রিটার্নিং কর্মকর্তাসহ নির্বাচনের দায়িত্বে থাকা সবাইকে বিষয়টি জানিয়েছি। কিন্তু তাঁরা কোনো পদক্ষেপ নেননি। আমি এসব কেন্দ্রে ভোট বন্ধের দাবি জানাচ্ছি।’

অভিযোগের বিষয়ে আশুলিয়া নৌকা প্রতীকের প্রার্থী শাহাব উদ্দিন বলেন, অভিযোগ সত্য নয়। সুন্দরভাবেই ভোট হচ্ছে।

ঘটনার পরপরই সেখানে উপস্থিত হন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ আমজাদ হোসেন। তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি বলেন, নির্বাচন সুন্দর ও সুষ্ঠু হচ্ছে। কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা ছাড়া ভোটাররা যাতে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, সেটি নিশ্চিত করা হয়েছে। ঘটনার বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

দুপুর ১২দিকে নৌকা প্রতীকে জোর করে সিল মারার অভিযোগ করে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন আশুলিয়া থানার ইয়ারপুর ইউনিয়নের জাতীয় পার্টির মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. আল কামরান। তিনি বলেন, ‘আমরা ভেবেছিলাম অন্যান্য এলাকার ইউপি নির্বাচনের মতো এখানে সবার অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে সুষ্ঠু নির্বাচন হবে। কিন্তু এটি হয়নি। নির্বাচনটি প্রহসনমূলক, তাই আমি নির্বাচন বর্জন করলাম।’

দুপুরে সাভারের আশুলিয়া ইউনিয়নের আশুলিয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজ, আশুলিয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ আশপাশের কয়েকটি ভোটকেন্দ্র পরিদর্শন শেষে হতাশা ব্যক্ত করেছেন জ্যেষ্ঠ নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার। তিনি বলেন, ‘কোথাও কোনো লোকজন নাই। প্রিসাইডিং কর্মকর্তার সামনে সিল মারছে, সাক্ষী আছেন, সাংবাদিকেরা দেখেছেন। অথচ কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এখানে আমাদের র‍্যাব আছে, পুলিশ আছে, আনসার সদস্যরা আছে। আমরা কী নির্বাচন করছি তাহলে? সবার সামনে ব্যালট পেপারে সিল মারে, এলাকার মধ্যে এটি ঘটেছে।’

এসব অভিযোগের বিষয়ে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে, এমন প্রশ্নের জবাবে মাহবুব তালুকদার বলেন, রিটার্নিং কর্মকর্তাকে সর্বময় কর্তৃত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি যেটা ভালো বোঝেন, সেভাবে ব্যবস্থা নেবেন।

এসব অভিযোগের বিষয়ে ঢাকা জেলার জ্যেষ্ঠ নির্বাচন কর্মকর্তা মুনীর হোসাইন খান প্রথম আলোকে বলেন, ‘স্যার (মাহবুব তালুকদার) একটি কেন্দ্র ঘুরে দেখেছেন, সেখানে কিছু অনিয়ম পেয়েছেন। একজন প্রার্থীর কয়েকটা ব্যালট মেরেছেন, এমনটি পেয়েছেন। আমরা বলেছি, সেগুলো বাতিল করে দিতে। প্রিসাইডিং কর্মকর্তাকে সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে। যদি এভাবে নিরপেক্ষতা বজায় না থাকে, তাহলে সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তাকে সাময়িকভাবে দায়িত্ব দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন