default-image

ঢাকার আশুলিয়ায় ঢাকা রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকার (ডিইপিজেড) এ ওয়ান বিডি লিমিটেডের শ্রমিকেরা রোববার প্রতিবাদী অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন। অবস্থান কর্মসূচি থেকে বকেয়া বেতন–ভাতাসহ শ্রমিকদের ওপর হামলার বিচারের দাবি জানানো হয়।
রোববার সকাল থেকে শ্রমিকেরা ডিইপিজেডের সামনে জড়ো হতে থাকেন। সকাল আটটার দিকে তাঁরা অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন। তিন ঘণ্টা ধরে চলা ওই অবস্থান কর্মসূচিতে বাংলাদেশ গার্মেন্টস শ্রমিক সংহতির নেতা-কর্মীরা যোগ দেন। এ সময় তাঁদের হাতে আহত শ্রমিকদের ছবিসহ বাংলা ও ইংরেজিতে লেখা নানা দাবি–সংবলিত প্ল্যাকার্ড দেখা যায়।
এ ওয়ানের শ্রমিক আশরাফ আলী বলেন, তাঁদের কারখানার মালিক ইতালির নাগরিক। প্রায় এক বছর ধরে তাঁর দেখা পাওয়া যাচ্ছে না। তাঁর অনুপস্থিতে গত এপ্রিল মাসে কারখানাটি বন্ধ ঘোষণা করা হয়। এর কয়েক মাস আগে থেকেই কারখানার ১ হাজার ১০০ শ্রমিক বেতন ও ভাতা পাচ্ছিলেন না। বেতন ও ভাতা না পেয়ে তাঁরা আন্দোলন করে যাচ্ছেন। সরকার বা ডিইপিজেড কর্তৃপক্ষ তাঁদের দাবি পূরণে কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো বলপ্রয়োগ করে তাঁদের দমিয়ে রাখার চেষ্টা করছে। এতে পরিবার–পরিজন নিয়ে শ্রমিকেরা মানবেতর জীবন যাপন করছেন।

বিজ্ঞাপন

অবস্থান কর্মসূচি থেকে বাংলাদেশ গার্মেন্টস শ্রমিক সংহতির আশুলিয়া শাখার সাধারণ সম্পাদক জিয়াদুল ইসলাম বলেন, ২ নভেম্বর কারখানা নিলামে বিক্রি করে শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধের কথা ছিল। কিন্তু ওই দিন নিলাম অনুষ্ঠিত হয়নি। নিলাম না হওয়ায় বকেয়া বেতন ও ভাতা প্রদানে অনিশ্চয়তা দেখা দিলে শ্রমিকেরা ওই দিন বিক্ষোভের আয়োজন করেন। পুলিশ ও ডিইপিজেডের আনসার বাহিনীর সদস্যরা বিনা উসকানিতে আন্দোলনরত শ্রমিকদের ওপর হামলা চালান। হামলায় অর্ধশতাধিক শ্রমিক আহত হন। ডিইপিজেড কর্তৃপক্ষ ওই আহত শ্রমিকদের কোনো খোঁজ নেয়নি।
জিয়াদুল ইসলাম আরও বলেন, অনতিবিলম্বে শ্রমিকদের বেতন–ভাতা পরিশোধের ব্যবস্থা করতে হবে। আহত শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণসহ হামলায় অংশ নেওয়া পুলিশ ও আনসার সদস্যদের বিচারের ব্যবস্থা করতে হবে। এসব দাবি মানা না হলে বড় ধরনের কোনো আন্দোলন শুরু হলে তার দায় সরকার বা কারখানার মালিকপক্ষকে নিতে হবে।

মন্তব্য পড়ুন 0